নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট পৌরসভার সেরাপাড়া গ্রামের এক ভূক্তভোগি পরিবার নিজ বাড়ির ভিটা রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২.৩০টায় রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট পৌরসভার সেরাপাড়া গ্রামের চরমপন্থি, যুবলীগের সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু আব্দুল্লাহীল কাফীর বিরুদ্ধে পৈত্রিক বাড়ির ভিটা দখল করার পাঁয়তারা ও প্রাননাশের হুমকী এবং একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করার প্রতিবাদে এই সংবাদ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভিটার এক অংশের মালিক আনোয়ার হোসেন এর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বার শতক ভিটা জমি তার দাদী মৃত ছানোয়ার বিবির। পরে তিনি জীবিত থাকাকালীন সময়ে তার বাবা আনোয়ার হোসেন ও ছোট চাচা দেলোয়ার হোসেন রিপনের নামে ১১ শতক ভিটা জমি সমান ভাগে ভাগ করে দেন। অবশিষ্ট ১ শতক মসজিদের নামে দিয়ে দেন। পরে আমরা বাবা ও চাচা তাদের নিজ নিজ অংশ খারিজ করত: খাজনাদি পরিশোধ করে আসছেন।
যার জেলা-রাজশাহী, থানা-গোদাগাড়ী, মৌজা-আবদুলপুর, আর.এস খতিয়ান নং-৩৯, প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-৩২২, দাগ নং- ১৪, হোল্ডিং নং-৩৪২, রকম ভিটা, পরিমান ০.১২ একর(বার শতক)। চরমপন্থি, যুবলীগের সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু একই গ্রামের মাইনুদ্দিন এর ছেলে আব্দুল্লাহীল কাফী আমাদের ঐ বার শতক বাড়ির ভিটা জবর দখল করার জন্য অনেকদিন ধরে পাঁয়তারা করছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন ভূমিদস্যু কাফী তার দাদীর নামে ২০১৬ সালে রাজশাহী জজ কোর্টে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেন। ঐ মামলায় কাফী কখনো হাজিরা দিতেন না। তিনি শুধু টাইম পিটিশন করতেন। এ জন্য তার আইনজীবীব তিনবার জরিমানা দিয়েছেন। এই মামলার রায় চলতি মাসের যে কোনদিন হতে পারে। এর মধ্যে দাদী ২০১৮ সালে ৩০ এপ্রিল ইন্তেকাল করেছেন। তিনি মারা গেলেও মামলা এখনো চলমান আছে।
তিনি বলেন, তারা বাবা এবং চাচা পৈত্রিক ভিটা থেকে অন্য জায়গায় বাড়ি করেছেন। এখন ঐ বাড়ির ভিটায় তারা গাছ রোপনসহ অন্যান্য কাজ করবেন। কিন্তু কাফি করতে দিচ্ছেনা। শুধু তাইনয় তার দাদার বাড়ি ফাঁকা পেয়ে অনেক আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী কাফীরা নিয়ে চলে গেছেন। মুলত আব্দুল্লাহীল কাফী একজন ভয়ঙ্কর প্রকৃতির লোভী ও সন্ত্রাসী। এমন কোন কাজ নেই তিনি করতে পারেন না। অর্থের লোভে পরে গোদাগাড়ীর মহিশালবাড়ির এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। তার বয়স কাফীর থেকে ডবল ছিলো।
এছাড়াও কাফী এনজিও করার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। যে টাকা এখনো ফেরত দেননি। সেইসাথে কাকনহাট রেলষ্টেশনের বিপরীতে তার এনজিও অফিসে বসাতো জুয়া খেলা ও মদের ভাটি এবং ঐখানে তিনি নারী নিয়ে ফুর্তি ও দেহ ব্যবসা করাতো। এ নিয়ে পতিত সরকারের আমলেই কাফী অনেকবার পুলিশের রোষানলে পরেন এবং জেল হাজত খাটেন। সেইসাথে এমন কোন খারাপ কাজ নাই তিনি করেন না। তা এখনো চলমান রয়েছে।
এখানেই শেষ নয় কাফী একজন মামলাবাজ ব্যক্তি। শুধু আমাদের নামেই মামলা নয় অনেক লোকের জমি ও পুকুর দখল করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে। তার বাবা ও চাচার নামে মামলাতো চলমান রয়েছে আবারও ২৫-০৯-২০২৫ইং তারিখ তার এবং দাদা ফজলুর রহমান, বাবা আনোয়ার হোসেন, চাচা দেলোয়ার হোসেন রিপন, আমার ছেলে তার মা জোবাইদা ও চাচী নাজমার নামে জেলা রাজশাহীর বিজ্ঞ গোদাগাড়ী থানার আমলী আদালতে মারপিট ও ঘরের মধ্যে থাকা স্বর্ণাংকার লুটের মামরা দায়ের করেছে। অথচ ঐদিন বাবা ও চাচা বাদী কাফী রাজশাহী জজ কোর্টে হাজিরা দেয়ার জন্য একইসাথে উপস্থিত ছিলেন। যার প্রমাণ হচ্ছে আইনজীবীর ওকালত নামার স্বাক্ষর।
ঐ মামলা করেই কাফী ক্ষান্ত হননি। তিনি চলতি মাসের ৫তারিখ তাদের নামে সাত ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায় কাফী কোন প্রকৃতির লোক। পূর্বের মামলা গুলো চলমান রয়েছে। সেগুলোর রায় না হতেই একের পর এক আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন। কাফী কাফী ২০০২ সালে সেনাবাহিনী পরিচালিত “অপারেশন ক্লিন হার্ট” অভিযানে তালিকাভুক্ত আসামি ছিলেন পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তিনি “কফি বাহিনী” নামে সন্ত্রাসী দল গঠন করে কাকনহাট পৌরসভার সরকারি গম লুট করে, যা এখনো আদালতে বিচারাধীন। সাম্প্রতিক ২০২৫ সালে একটি গাভী ভুলবশত কাফীর দখলকৃত জমিতে প্রবেশ করে ফসল খেলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাভীটিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করে।
এ নিয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় করলেও বাদী এখনো বিচার পাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সকল ঘটনা প্রমাণ করে আব্দুল্লাহীল কাফী কতটা হিংস্র, নির্দয় ও পশুবৃত্তীয় মানসিকতার ব্যক্তি। কাফীর কবল থেকে পরিত্রান পেতে কাফীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানান। এ সময়ে জমির মালিক আনোয়ার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন রিপন উপস্থিত ছিলেন।