নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অধিকার ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গোদাগাড়ীর পাকড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রাঙ্গনে বুধবার বেলা ১০টায় প্রমোশন অব ইনক্লুসিভ কমিউনিটিস ফর সিনিয়র সিটিজেন্স, পার্সন উইথ ডিজাবিলিটিস এন্ড ড্রাগ ইউজার অথবা এবুজারস ইন কারিতাস বাংলাদেশ রাজশাহীর আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ডেভিড হেম্ব্রম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকড়ী ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান-১ গোলাম রব্বানী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন পাকড়ী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ইকবাল হোসেন, শুরসনিপাড়া ধর্মপল্লীর সহকারী পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার লিটন কস্তা ও মুশরাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জহুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার দীপক এক্কা।

কারিতাস বাংলাদেশ গোদাগাড়ী উপজেলার সিএমএফপি প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার মীর জানে আলম ও পত্নীতলা উপজেলা টিসিআরপি প্রকল্পের ফিল্ড এনিমেটর লিনা বিশ্বাস এর সঞ্চালনায় মাঠ পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন পাকড়ী ইউনয়িনের উন্নয়ন কমিটির সদস্য শিউলি বেগম. দেওপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ক্লাবের সদস্য দিপালী রানী, পাকড়ী ইউপি উন্নয়ন কমিটির নেতা নূরুল হুদা ও পাকড়ীর প্রতিবন্ধি নারী ফোরামের সভাপতি রাশেদা খাতুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সভায় ভিসিডি ও ডিসি লিডার, নারী ফোরাম, ক্লাব ও পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, মাদক এমনটি বিষ যা তিলে তিলে মাদকসেবীকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। একটি দেশ ও জাতীকে ধ্বংস করতে এর থেকে ভাল ও স্লোপন্থা আর নেই। প্রতিদিন বাংলাদেশে কোটি কোটি টাকার মাদক আটক হচ্ছে। সেইসাথে কোটি কোটি টাকার মাদক সারা দেশে আইন শৃংখলাবাহিনীর নজর এরিয়ে যুবসমাজ থেকে শুরু করে অন্যান্যদের নিকট পৌঁছে যাচ্ছে। আর এগুলো সেবন ও খেয়ে যুবসমাজ আজকে ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, প্রবীন, প্রতিবন্ধী ও মাদকাসক্তদের অবহেলা নয়। তাদের কাছে টেনে নিতে হবে। ভালবাসতে হবে। কাজের মধ্যে তাদেরকে জড়িয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া মাদক সেবন ও খাওয়া থেকে বিরত রাখতে তাদেরকে পরিবারের অভিভাবক, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের সময় দিতে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। তাদের সঠিকভাবে যত্ন করতে হবে। পড়ালেখা ও কর্মমুখি শিক্ষা প্রদান করতে হবে। সেইসাথে প্রবীন পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সর্বদা কাছে লেখে যত্ন নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যের পূর্বে ছয়জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপবৃত্তি হিসেব নগদ অর্থ প্রদান করেন।