নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মাননা: জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষায় তাঁদের অবদান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরেছেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ।
রোববার সকালে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম ও মানঝি পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আয়োজনে এবং এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও এনএজিআর (ন্যাশনাল এজেন্সী ফর গ্রিন রিভ্যুলেশন) সংস্থার সহযোগিতায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল পৌনে ১১টায় ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে উদয়ন মোড়, নিউমার্কেট, সেন্টু মার্কেট ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলার পারগানার সভাপতি কর্নেলিয়াস মুরমু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম। সমাবেশে বক্তব্য দেন সমাজ উন্নয়ন কর্মী নিকোলাস মুরমু, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, কোল আদিবাসী নেত্রী কল্পনা মুরমু, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মনিকা সরেন, শিক্ষক আলবেরিকুশ মুরমু এবং আদিবাসী যুব নেতা সিপানুয়েল হেমব্রম। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ এবং রেডিও মহানন্দার সহকারী স্টেশন ম্যানেজার রেজাউল করিম টুটুল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা ভাতাসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাশাপাশি নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ না থাকায় আদিবাসী শিশুরাও পিছিয়ে পড়ছে।
বক্তারা বলেন, তারা আদিবাসী, তবে ‘আদিম’ নন। তারা নিজেদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে নয়, বরং এ দেশে দীর্ঘকাল ধরে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। বিশেষ করে সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধান ও ঐতিহ্যগত ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম সাত দফা দাবি পেশ করেন। দাবীগুলো হলো, সংবিধানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন, আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি দখল বন্ধ করে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আদিবাসীদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, সাঁওতালসহ সকল আদিবাসী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং আদিবাসী ভূমিপত্র আলফ্রেড সরেন, চুডু সরেন, বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল নেতা শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী, রমেশ টুডু, চলেশ রিছিল, পীরেন স্নালসহ সমতল ও পাহাড়ে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে এবং আদিবাসীদের ভুমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
কর্মসূচিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য ও প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।