নিজস্ব প্রতিবেদক: জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের তালতলা মাঠে জাতীয় সাঁওতাল সঙ্গীত উৎসব। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকল ১০টায় দিনব্যাপী এই সঙ্গীত অনুষ্ঠানে সাঁওতাল জাতি তাদের বাদ্যযন্ত্র ও সুরের মূর্ছনায় এই অনুষ্ঠানকে জাগিয়ে তোলে। জাতীয় সাঁওতাল সঙ্গীত উৎসব উদ্বোধন করেন গাাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রবিউল হাসান। উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ হোসেন, গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র মুকিতুর রহমান রাফি, সান্তাল মিউজিশিয়ানস এসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশ (সামাব) এর সভাপতি জন হেমব্রম ও প্রফেসর সামসন হাঁসদা। এছাড়াও স্থানীয় সাঁওতাল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সান্তাল মিউজিক ফেস্টিভ্যালে স্বাগত সাঁওতালি ভাষায় দেশাত্মবোধক গান ও নাচ পরিবেশন করেন স্থানীয় গানের দল দদসাহেৎ”। এরপর দিনভর সাঁওতালি ভাষায় বিভিন্ন সুরে গান পরিবেশন করেন সান্তালী গানের ব্যান্ড সেঙ্গেল, বীরবাহা, হুল, আঙ্গারা, এভেন ও আড়াং। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত জাতীয় সান্তাল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছে সান্তাল মিউজিশিয়ানস এসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশ (সামাব) এবং সার্বিক সহযোগিতায় করেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ) বলেন-“এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব বর্ণ ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। সকল সংস্কৃতির মানুষ নিয়ে আাগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বড় ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন।
উৎসবের আয়োজক সামাব এর সভাপতি জন হেমব্রম বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো এই সঙ্গীত উৎসবের মাধ্যমে সাঁওতালি সংস্কৃতির বিশেষ করে হারিয়ে যাওয়া সুর চর্চায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা । এছাড়াও এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাঁওতালি শিল্পীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পযার্য়ে প্লাটফর্মে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া। সংস্কৃতি কর্মী কিংবা শিল্পীদের এক মিলন মেলা এই জাতীয় সান্তাল সঙ্গীত উৎসব। আগামীতে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলে জানান তারা। সেইসাথে এই উৎসব আগামীতে বিভিন্ন জেলায় করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তারা।’
এছাড়াও উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা দিনব্যাপী এই সঙ্গীত উৎসব অনুষ্ঠানের ভূয়াশী প্রশংসা করে এর মাধ্যমে সান্তাল সংস্কৃতির প্রসার ঘটবে বলে আশাবাদ করেন। অনুষ্ঠানে প্রায় স্থানীয় পাঁচ হাজারেরও বেশি দর্শকদের উপস্থিতি ছিল।