নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে রাজশাহীতে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি। আলোচনা সভার শুরুতে রাজশাহী জেলার পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া বিনতে আফজল।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, ট্যুরিস্ট পুলিশ রাজশাহী রিজিয়ন পুলিশ সুপার মতিউর রহমান, রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক সাদরুল ইসলাম, পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মোতাহার হোসেন, রাটার সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম।
এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী জেলা শিশু একাডেমি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও পর্যটন কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বলেন, রাজশাহীতে বাঘা মসজিদ, পদ্মা নদী, যাদুঘর ও পুঠিয়া রাজবাড়ী সহ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। কিন্তু প্রচারণার অভাবে এবং বিদেশী পর্যটকদের থাকার সুব্যবস্থা না থাকায় রাজশাহীতে পর্যটক আকৃষ্ট করা যাচ্ছেনা। তারা আরো বলেন, রাজশাহীতে হাতেগোনা দুই-থেকে তিনটি থ্রীস্টার মানের আবাসিক হোটেল ও একটি মাত্র পর্যটন মোটেল রয়েছে। যা পর্যপ্ত নয়। রাজশাহীতে পর্যটক টানতে হলে জরুরী ভিত্তিতে পাঁচ তারকা হোলেট নির্মাণ, দক্ষ গাইড তৈরী এবং দক্ষ রেন্ট এ কার রাখতে হবে। আর এগুলো সরকারীভাবে তালিকা তৈরী করে রাখা প্রয়োজন বলে তারা মতামত দেন।
প্রধান অতিথি বলেন, পর্যটন স্থানগুলো একদিকে যেমন দেশের সৌন্দর্য বহন করে, তেমনি দেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তোলে। শুধু তাই নয় পর্যটন স্থান থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে থাকে। মোট কথা পর্যটন শিল্প দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর পরিমানে পর্যটন স্থান রয়েছে। এগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও দেখার জন্য সৌন্দর্য বর্ধন এবং নিরাপত্তা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারলে বাংলাদেশও এক সময় পর্যটন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তবে সেদিন আর বেশী দূরে নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে পর্যায়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধান অতিথি।