নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন জিন্নাহ নগর এলাকার লিয়াকত আলী তার হারানো মিনি ট্রাক উদ্ধার ও ছিনতাইকালীদের আটক করার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। সোমবার সকালে তিনি এই আবেদন করেন বলে জানান তিনি। তিনি ঐ আবেদনে উল্লেখ করেন তার একটি মিটি ট্রাক চলতি বছরের গত জানুয়ারী মাসে ছিনতাই হয়। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো ন-১১-৫৭৪৬।
গত ৬ জানুয়ারী-২০২৬ ইং সকাল ৮টায় তার ট্রাক চালক পিন্টুর বাবা বাড়িতে এসে খবর দেন, পিন্টু ও হেল্পার জাহাঙ্গীরকে বেধে রেখে মিনিট্রাকটি ডাকাত দল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। একই তারিখ বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা নাগাদ জয়দেবপুর থানার এস.আই সুলতান আমাকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এরপর পরেরদিন ৭ জানুয়ারী ছিনতাইকারীরা তাকে মোবাইলে কল করে বলেন, আপনার গাড়ী পেতে হলে টাকা দিতে হবে। পুলিশকে বলে কোন লাভ হবেনা। এ সময়ে তিনি ছিনতাইকারীর নিকট দুইদিনের সময় চান এবং ঘটনাটি পুলিশকে জানান। এরপর ৯জানুয়ারী তিনি রাজশাহী থেকে জয়দেবপুর থানায় যান এবং পুলিশ এর সাথে বসে থেকে অপেক্ষা করতে থাকেন।
ছিনাতাইকারীরা ফোন করার সময় পুলিশ তার সাথেই ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। পুলিশের সামনে ট্রাকটি ভিডিও কলের মাধমে দেখতে চাইলে তারা সরাসরি না দেখিয়ে পরে স্থানীয় একজনের মোবাইলে ছবি পাঠান। এরপর পুলিশের সামনেই তিনি ছিনতাইকারীদের দাবী মোতাবেক টাকা পাঠান। টাকা নিয়েও তারা তার ট্রাকটি দেয়নি। এখন পর্যন্ত পুলিশও ট্রাকটি উদ্ধার করে দেননি।
“জানুয়ারী মাসের ২৪ তারিখ নারায়নগঞ্জের আড়াই হাজার থানা থেকে তাকে মোবাইলে বলেন, আমি এ.এস.আই রুহুল আমিন বলছি। তিনি তাকে বলেন তার গাড়িটি কোথায়। আমি তখন বলি আমার গাড়ি জয়দেবপুর থানা এলাকায় ছিনতাই হয়ে গেছে।” তখন তিনি বলেন, আপনার ট্রাক নিয়ে আরেকটি গাড়ী আমার থানা এলাকা থেকে ছিনতাই করা হয়েছে। সেই ভিডিও ফুটেজ আমাকে দেন নতুন করে ছিনতাই করা গাড়ীর মালিক আরিফ। তিনি বলেন, আপনার এবং আমার গাড়ী একই ছিনতাইকারী ছিনতাই করেছে।
এ নিয়ে দুই থানা মিলে গাড়ী উদ্ধারের জন্য রাতভর অভিযান চালিয়ে দুইজন ছিনতাইকারীকে আটক করে এবং ছিনতাইকারীদের ভিডিও ফুটেজ পাঠান আমার নিকট। এদিকে পুলিশ আমাকে দুইজন ছিনতাইকারীর এনআইডি কার্ড দেখান। ঐ কার্ড বশির ও শাহপরাণ নামে দুই ছিনতাইকারী। এদের আটক করতে পারলে আপনার ট্রাকটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে জানান। কিন্তু গাড়ী উদ্ধারের নামে আমার নিকট থেকে বিপুল পরিমান টাকা নিলেও এখন পর্যন্ত আমার ট্রাকটি এখনো উদ্ধার হয়নি। আমার একজন পালিত প্রতিবন্ধী মেয়ে আছে। তার জীবন নির্ধারণের জন্যই এই ট্রাকটি ক্রয় করা হয়েছিলো।
এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর প্রকাশিত হলেও আইন শৃংখলা বাহিনী কোন পদক্ষেপ নেননি। সব কিছু মিলিয়ে আমার সাথে উদ্ধার উদ্ধার খেলা থেকে অর্থ আদায় করছে ঐ চক্র। আমার পালিত প্রতিবন্ধি মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চিটিং করে টাকা নেয়া চক্রটিকে সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান এবং আমার ট্রাকটি উদ্ধার করে ফেরত দেয়ার জন্য কমিশানর এর নিকট অনুরোধ জানান তিনি।