নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রীন সিটি, ক্লিন সিটি ও এডুকেশন সিটি খ্যাত রাজশাহী মহানগরী বুক চিরে বয়ে গেছে প্রমত্তা পদ্মা নদী। এই নদীর পার ঘেষে সরকারী জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের স্থাপনা ও বসতবাড়ি। ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। অন্যদিকে ভ্রমন পিপাসুরা এবং স্বাস্থ্য সচেতন মানুষগুলো পড়ছে বিড়ম্বনায়। এ অবস্থা প্রতিনিয়ত বাড়তেই আছে। এই সকল অবৈধ বসত বাড়িতে গড়ে উঠেছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। অন্যদিকে চলাচলের রাস্তার উপরে হরু, ছাগল ও অন্যান্য পন্য সামগ্রী রেখে জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাইটেক পার্ক থেকে তালাইমারী পর্যন্ত পদ্মার ধারের বিভিন্ন জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় স্থানীয়দের বসতবাড়ি গড়ে উঠলেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। এ অবস্থা দেখে এক প্রকার নিরুপায় হয়ে নগরীর বুলনপুর এলাকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, তিনি ডায়াবেটিকস এর রোগী হওয়ায় প্রতিদিন নিয়ম মেনে চলাফেরা করতে হয়। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা তিনি হাইটেক পার্ক থেকে টি-বাধ পর্যন্ত হাটেন। তিনি বলেন, হাটতে যেয়ে দেখেন বুলনপুর এলাকায় পদ্মার ফুটওয়ার রাস্তা বন্ধ করে নির্মাণ করা হয়েছে বসতবাড়ি। এছাড়াও বাঁধের উপর দিয়ে যাওয়ার মত কোন পরিবেশই নেই। ছাগল,গরু, বেঁধে রাখার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারীদের। এত করে সৌন্দর্য হারাতে বসেছে রাজশাহী পদ্মাপাড়।

পদ্মার পাড় দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাজশাহী সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেজাউল করিম জনসাধারনের পক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্বের মধ্যে শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত। সেইসাথে পরিবেশ ভাল থাকায় বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর পর পর দুইবার পরিবেশ পদক লাভ করেছে। রাসিক মেয়র তা গ্রহন করেছেন। এটা রাজশাহীবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। এই গর্বকে ধরে রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে বলে জানান তিনি।
রাজশাহীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্র খ্যাত টি-বাঁধে বেড়াতে আসা ভ্রমন পিপাসু খলিলুর রহমান লুইজা খানম, আরশাদ আলী, শাওন, আশিস কুমার ও আয়েশা খানমসহ অন্যান্যরা বলেন, রাজশাহীতে নির্মল অক্সিজেন ও বাতাস গ্রহন করার একমাত্র স্থান হচ্ছে পদ্মা নদীর পাড়। এই নদীর ধারে কিছু সময় বসলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। জনগণের জন্য আরো বিনোদনের পরিধি বাড়াতে এবং পর্যটক আকৃষ্ট করতে নদীর ধার দখল মুক্ত করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান তারা।