নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বড়গাছী পেটয়া বিদিরপুর ফেরিঘাট, ফুলতলা ভাটুপাড়া ফেরিঘাট এবং ভগবন্তপুর পেটয়া আনাতুলি এই তিনটি ফেরিঘাট চলতি বাংলা সনে এখন পর্যন্ত ইজারা দেয়া হয়নি। এতে করে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। ঘাট ইজারা কেন হচ্ছেনা সে বিষয়ে জানতে ও আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মু: রেজা হাসান এর সাথে বিএনপি নেতৃবৃন্দ সাক্ষাত করেন এবং ঘাট ইজারা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপি’র নিবাচিত সাধারণ সম্পাদক মজিউল আহসান হিমেল, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন টিটু, মিঠু ও তরিকুল ইসলাম, ১৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মাইনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক পিঙ্কু। আরো উপস্থিত ছিলেন খাজা, বাবলু, শাহ আলম লেকসাদ, আকবর আলী, বাচ্চু, দেলোয়ার হোসেন, সোহেল রানা, সুমন হোসেন, ব্যবসায়ী সমসের আলী, বিএনপি নেতা শাহীন ও যুবদল নেতা মুন্নাসহ আরো অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ঘাটগুলো ইজারা দেয়ার দাবী জানালে রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মু: রেজা হাসান বলেন, এই ঘাটগুলো জেলা পরিষদ থেকে ইজারা বন্ধ করা হয়নি। বন্ধ হয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় থেকে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গত কয়েক মাস আগে চরআষাড়িয়াদহ এলাকার একটি ছাত্র সংগঠন ইজারা বাতিল করার দাবীতে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে এবং বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করলে কমিশনার তাৎক্ষণিক ইজারা সাময়িকভাবে বাতিল করে এ নিয়ে করণীয় বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, জেলা পরিষদ ঘাট ইজারা দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। কিন্তু কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া ও সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেনা। ইজারা না হওয়ার জেলা পরিষদ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ঘাট ইজারার টাকা দিয়ে জেলা পরিষদ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেন। সেটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলা পরিষদ। তবে সব কথার এক কথা কমিটির প্রতিবেদন শেষে যে সিদ্ধান্ত হবে সেভাবেই জেলা পরিষদ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য গত ১৪৩১ বাংলা সনে বড়গাছী পেটয়া বিদিরপুর পঁচাত্তর লক্ষ টাকা, ফুলতলা ভাটুপাড়া ফেরিঘাট চৌষট্টি লক্ষ টাকা এবং ভগবন্তপুর পেটয়া আনাতুলি ফেরিঘাট ছিচল্লিশ লক্ষ টাকা ইজারা দেয়া হয়। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব পায় সরকার। কিন্তু ১৪৩২সালে এই ঘাটগুলো মাত্র এক মাসের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছিলো। এতে বড়গাছী পেটয়া বিদিরপুর ফেরিঘাট মাসিক এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা, ফুলতলা ভাটুপাড়া ফেরিঘাট মাসিক পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা ও ভগবন্তপুর পেটয়া আনাতুলি ফেরিঘাট মাসিক সাড়ে লক্ষ টাকায়। বর্তমানে এই তিনটি ফেরিঘাট চর আষাড়িয়াদহ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভোলা টাকা আদায় করছেন।