নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয়। তিনি এখন সিসিইউতে আছেন। তিনি বর্তমানে মেডিসিন ও খাবার গ্রহন করতে পারছেন। কে এই বেগম খালেদা জিয়া। গণতন্ত্রের মানষকন্যা, বিএনপি চেয়ারপার্সন, তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, মাদার অব ডেমোক্রেসী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন এদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর স্ত্রী। শুধু তাইনয় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মা। তাঁকে একটা কারাগারে একাকী রাখা হয়েছিলো বলে পবার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পতিত সরকারের আমলে সাজানো মামলায় ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে ফরমায়েশি রায়ে তাঁকে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছিলো। সেখানে তাঁকে এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় রাখা হয়েছিলো। তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও তাঁকে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার বেগম জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য আবেদন করলেও স্বৈরাচার খুনি হাসিনা তা আমলে নেয়নি। বার বার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। পরে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দিলেও এক প্রকার গৃহবন্দী করে তাঁকে রাখা হয়েছিলো বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, দেশে এখন পরাজিত শক্তিরা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা নির্বাচন বানচাল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তারা উদীয়মান ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যা করেছে। ওসমান হাদী সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর জন্য সবাই কাঁদছে। তার জন্যই এখানে দোয়া করা হয়। তিনি বলেন, আজকে তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। বাংলাদেশের মানুষ বীরের জাতী। যতই ষড়যন্ত্র হোক জনগণ তা রুখে দেবে। তিনি হাদীর খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানান। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন দেশে যথা সময়েই হবে।
তিনি বলেন, ধানের শীষ হচ্ছে আপামর জনসাধারনের প্রতিক। এই প্রতিক যেন বিজয়ী হতে পারে তার জন্য দোয়া করা হয়। বিএনপি হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাশে ছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ১৯৭১ সালে দিশেহারা মানুষকে পথ দেখানোর জন্য স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি নিজেও যুদ্ধ করেছিলেন। এছাড়া স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৫ সালের পরে জাতী যখন আবারও দিশেহারা হয়ে পড়েন তখন তিনি আবারও দেশের হাল ধরেন এবং দেশকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন বলেন, বিএনপি সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করে। স্বৈরাচার এরশাদকে বিএনপি বিতারিত করেছিলো। আর সে সময়ে জোটবদ্ধ আন্দোলন করলে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত জাতীয় বেইমান ও মোনাফেকী করে ১৯৮৬ সালে এরশাদ এর নির্বাচন করেছিলেন। তিনি বলেন, জামায়াত সর্বদা একটা মোনফেকী দল। তারা যে পাতে খায় সেইপাত ফুটা করে। জামায়াত এখন ক্ষমতার মোহে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে। তারা ইসলাম এর নাম ভাঙ্গিয়ে জনগণকে ধোকা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, জামায়াত হাতের মধ্যে ছোট কোরআন দিয়ে শপথ করাচ্ছে। বিএনপি করলে কি নামাজ আদায় করেনা। এখন জামায়াতে ইসলামী অমুসলিম শাখা করেছে বলে জানান তিনি। শুধু তাইনয় জামায়াত খুলনায় কৃষ্ণ নন্দী নামে একজনকে নমুনেশন দিয়েছেন। ইসলামী দল বলে দাবীদার কোনদল এমন ন্যাক্কার ঘটনা ঘটাতে পারে কি? এ থেকে স্পষ্ট জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী দল নয়। তিনি বলেন, জান্নাতের টিকিট সোজা নয়। জান্নাত পেতে হলে আল্লাহর হুকুম আহকাম মানতে হবে, পালন করতে হবে। এর মধ্যেই রয়েছে জান্নাত ও জাহান্নাম। আল্লাহ যদি ক্ষমা করেন তাহলেই জান্নাত হতে পারে। এটা নিয়ে জামায়াতে ইসলাম ভন্ডামী করছে। জামায়াতের ভন্ডামী থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন এর সভাপতিত্বে রাজপাড়া থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোজাহিদ, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার আলী, পবা উপজেল যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম, আইন বিসয়ক সম্পাদক এডভোকেট তারেক হোসেন, সাবেক সদস্য মাজদার হোসেন, পবা উপজেলা জাসাস এর সভাপতি একরাম হোসেন, পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজ। এছাড়াও যুব নেতা কবির, গিয়াস উদ্দিন, হাবিবুর রহমান, আব্দুস সালামসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।