নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমিদস্যু মামলাবাজ ও অবৈধ কাজে জড়িতদেও মূলহোতা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও তার ছেলে আরিফ ও সোহাগ এর মাদক-সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ অনুষ্ঠিত হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাটাপাড়া আবু সুফিয়ানের মোড় এলাকায় ৭নং ওয়ার্ড এলাকাবাসীর ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপি নেতা মামুন রানা।
তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন তার পরিবার ও অত্র এলাকাবাসী ৭নং ওয়ার্ড ভাটাপাড়া আবু সুফিয়ানের মোড়ের ভূমিদস্যু, মামলাবাজ, অবৈধ কাজে জড়িতদের মূলহোতা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও তার বড় ছেলে আরিফ ও মেজো ছেলে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী সোহাগ এর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। তারা এলাকার কারো সাথে মিশেনা। এই মোড়েই তাদেরই বাড়িসহ জমি ক্রয় করেন। ঐ বাড়িটি হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের লোনের টাকায় করা ছিলো। এ সুবাদে তারা অত্র প্রতিষ্ঠান হতে পৌনে দুই কাঠা জমিসহ বাড়িটি ক্রয় করেন। কিন্তু আব্দুর রহমান ক্রয়কৃত জমি থেকে তাদের আরো চার ছটাক জমি বেশী জবর দখল করে রেখেছেন বলে জানান তিনি।
এনিয়ে এলাকার বিশিষ্টজন ও উভয় পক্ষের আমিন দিয়ে বার বার মাপজোক করেও আজও জমি উদ্ধার করতে পারেননি। এখ পর্যন্ত জবর দখল করে রেখেছেন আব্দুর রহমান গংরা। তিনি আরো উল্লেখ করেন, আব্দুর রহমান একজন মামলাবাজ লোক। তিনি ক্ষমতার বড়াই দেখিয়ে আশে পাশের প্রায় সকল বাড়িওয়ালাদের নামে মামলা করে রেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন রানা। শুধু তাইনয় আব্দুর রহমান ২০১৫ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজপাড়া থানার উপপুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার শীলকে দিয়ে থানার মধ্যেই উল্টিয়ে গুলি করে মারার হুমকী দেন বলে জানান রানা।
রানা আরো উল্লেখ করেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার ছেলেরা জুলাই আন্দোলনের আন্দোলকারীদের উপরে হামলা করেছিলো। পতিত সরকারের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। এখনো করে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে খুনি হাসিনা আসবে বলে সেই দাপটে গত কয়েকদিন পূর্বেও তাকে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়েছে। শুধু তাইনয় ভূমিদস্যু ও মামলা বাজদের বাড়ি সিরাজগঞ্জে হওয়ায় ঢাকা যাতায়াতের সময় তাকে আটকিয়ে মারপিট করবে বলেও হুমকি দিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।
রানা আরো বলেন, বিভিন্ন জমি ও ভূমি দখল করায় আব্দুর রহমান ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে রাজশাহী কোর্টে অনেক মামলা আছে। এছাড়াও তার ছোট ছেলে সোহাগ একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবনকারী। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ রাত ১টার দিকে তার নিজ বাড়ির নিচতলায় দুইজন পুলিশ সদস্যকে সাথে নিয়ে নেশা করছিল। এ সময়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, এলাকাবাসী ও সাংবাদিকরা সবাই মিলে মাদক সেবন করা অবস্থায় পুলিশ সহকারে তাদেরকে আটক করে। এরপর তাদের পুলিশে দেন তারা।
এ নিয়েও আব্দুর রহমান এলাকাবাসীসহ তাদের পরিবারের সবার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। যাহা এখনো চলমান। আব্দুর রহমান ক্ষমতার আড়ালে এবং তার পরিবার এলাকায় মাদকের ব্যবসা করে পরিবেশ নষ্ট করছে। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু ঐ পরিবারের সবাকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে এলাকায় শান্তি স্থাপনের জন্য পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এদিকে রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ঐ পরিবারের কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহত দল। এই দলকে কটুক্তি বা গালিগালাজ করলে কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবেনা। আব্দুর রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইন শৃংখলাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। না হলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উপস্থিত এলাকাবাসী একই দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও রাজপাড়া থানা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস। এছাড়াও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।