নিজস্ব প্রতিবেদক: সোমবার জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬। সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতে যথাযোগ্য এ দিবসটি উদযাপন করা হয়। সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় চত্বরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। উদ্বোধন শেষে একই স্থান থেকে ভূমিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় গিয়ে শেষ হয়। র্যালির আগে ভূমিমন্ত্রী বিআরডিবির উপকারভোগীদের হাতে আম চারা তুলে দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, বিআডিবির বিভাগীয় ও জেলা অফিসের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অগ্রগতির মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন অপরিহার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারের প্রায় ৯০ ভাগ প্রতিশ্রুতিই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। গ্রামেই যেন শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের সূচনা করেছে। বিশেষ করে নারীদের সঞ্চয়ী মনোভাব এবং পরিবারের প্রতি তাঁদের দায়িত্বশীলতাকে সম্মান জানিয়ে এই কার্ড সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রদানের মাধ্যমে একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনছে।
বিআরডিবির ভূমিকা তুলে ধরে বজলুর রশীদ বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলছে এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করার সুযোগ দিচ্ছে। এসময় তিনি ঋণের অর্থ যথাসময়ে পরিশোধ করে এই প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, হাবিবুর রহমান ও চিত্রলেখা নাজনীন, বিআরডিবির যুগ্মপরিচালক বকুল চন্দ্র রায়, বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক ড. কস্তুরী আমিনা কুইন, বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, উপকারভোগী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিভাগীয় কমিশনার।