সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

রাজশাহীতে নিজ জমি রক্ষায় ভূক্তভোগি পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশ সময় বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাথর ঘাটার ভূমিদস্যু জকিম ও আবু বক্কর কর্তৃক জমি জালিয়াতি করে দখল করার পাঁয়তারা এবং ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করে একতরফা রায় নেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় পবার দামকুড়াহাট কলেজ হলরুমে এই সংবাদ করেন জমির মালিক সোহেল রানা। তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন মুর্শেদ নামে এক জনের নিকট হতে ২০১৪ সালে ৩৩ শতক (এক বিঘা)জমি ক্রয় করেন। সেইসাথে খারিজ সম্পন্ন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। যার মৌজা- পাথরঘাটা, আর.এস খতিয়ান নং- ১৮৮। কিন্তু পাথরঘাটা গ্রামের জকিম ও আবু বক্কর মিলে তার ঐ জমি দখল করে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন। তারা গোপনে মামলা করে এক তরফা রায়ও নিয়েছে বলে তিনি জানতে পারছি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন এই জমিটা ছিলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বিক্রম মাঝি, উপেন মাঝি ও মতি মাঝির নামে। কিন্তু মতি মাঝি ১৯৭২ সালে অবিবাহিত অবস্থায় অসুস্থ জনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেন। মতি মাঝি মৃত্যুবরণ করলে ওয়ারিশ সূত্রে বাবার সম্পত্তির মালিক হন অন্য দুই ভাই বিক্রম মাঝি ও উপেন মাঝি। বিক্রম মাঝি, উপেন মাঝির ওয়ারিশসূত্রে এক একর ৫শতক জমি পান। ঐ জমির মধ্যে তারা দুই ভাই ১৯৭৪ সালে তাদের স্ব-জাতী শাম মুর্মুর নিকট দুই বিঘা জমি বিক্রয় করেন। পরবর্তীতে একই সালে বাকি জমি টুকুও বিক্রি করে দেন।

তিনি বলেন, শাম মাঝি আবার ১৯৭৪ সালেই দুই বিঘা জমি আলী মোহাম্মদ এর নিকট বিক্রি করেন। বাকী এক বিঘা জমি শাম মুর্মু ডিসি কর্তৃক পারমিশন করিয়ে নিয়ে ১৯৯৯ সালে রবিউল এর নিকট বিক্রি করেন। এরপর ২০০০ সালে রবিউল, মুর্শেদ এর নিকট জমিটি বিক্রি করে দেন। মুর্শেদ এর নিকট হতে তিনি ২০১৪ সালে ঐ এক বিঘা জমিটি ক্রয় করি এবং খারিজ করত: হালসন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করেছেন। উল্লেখ্য শাম মুর্মু ২০০৬ সালে পরলোক গমন করেন।

হঠাৎ করে একদিন জকিম ও আবু বক্কর এসে বলেন, আমার সম্পত্তি নাকি তাদের। তারা মামলায় ডিগ্রী পেয়েছেন। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জকিম ও আবু বক্কর বলেন, ২০১০ সালে জাল দলিল সাবমিট করে তারা রাজশাহী কোর্টে জমি তাদের দাবী করে একটি মামলা করেন। মামলায় মৃত শাম মুর্মু ও রবিউল ইসলামকে আসামী করা হয়। একজন মৃত ব্যক্তি কিভাবে মামলার আসামী হয়। আরো মজার বিষয় হলো যারা আসামী তারা কোনদিনও জানতে পারেননি তাদের নামে মামলা হয়েছে। কখনো তারা নোটিশ পাননি। এক কথায় জকিম ও আবু বক্কর গংরা অর্থের বিনিময়ে নোটিশ আসামীদের নিকট যেতে দেয়নি বলে উল্লেখ করেন।

জালিয়াতীর এখানেই শেষ নয়। জকিম ও আবু বক্কর গংরা ঐ তিন বিঘা জমি নাকী ১৯৭৬ সালে ক্রয় করেছেন বিক্রম মাঝি, উপেন মাঝি ও মতি মাঝির নিকট হতে। রেজিষ্টিকৃত দলিলে তিনজনেরই স্বাক্ষর রয়েছে। যে ব্যক্তি (মতি মাঝি) ১৯৭২ সালে পরোলোক গমন করলেন সে ব্যক্তি কিভাবে দলিলে স্বাক্ষর করেন। এ থেকে স্পষ্টই প্রতিয়মান হয় যে, জকিম ও আবু বক্কর গংরা একজন ভূমিদস্যু ও ভূমি জালিয়াত চক্র। তার এই ভূমি দস্যুদের কবল থেকে তার জমি রক্ষা করতে আইন শৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। সেইসাথে এই ভূমি দস্যু ও জালিয়াত জকিম ও আবু বক্কর এর কঠোর শাস্তির দাবী জানান সোহেল রানা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, জমি রক্ষায় তিনি মামলা করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এ বিষয়ে তিনি একজন আইনজীবীকে দায়িত্বন দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আদিবাসী জনগণসহ অন্যান্য জনগণ বলেন, তাদেরও অনেক সম্পত্তি ঐ জকিম ও আবু বক্কর গংরা দখল করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে বলতে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেন বলে জানান তারা। তারাও ঐ ভূমি দস্যুদের কবল থেকে তাদেরও জমি রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেইসাথে ঐ সম্পত্তি সোহেলের বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আবু বক্কর এর ছেলে আবুল কাশেমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোহেল রানা যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। তারা কারো জমি দখল করেননি। এ নিয়ে তিনবার তাদের উকিল বসেছেন, কিন্তু সোহেল রানা সেখানে উপস্থিত হননি। যেকোনো সময় এ বিষয়ে তারা বসতে রাজি আছেন। সোহেল রানা জমি পেলে সাথে সাথে তাদেক দিয়ে দেবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই সাথে এলাকায় এসে তদন্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন সোহেল স্ত্রীর বড় ভাই সারওয়ার হোসেন, শ্রীরামপুরের বাসিন্দা রাম মাঝি, গভীর নলকুপ ড্রাইভার রুহুল আমিন, মসেস হেম্ব্রম, কার্তিক তাঁসদা ও সুনিল মাঝিসহ অত্র পাথরঘাটা এলাকার অন্যান্য জনগণ।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin