নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে প্রতিপক্ষরা বাড়িতে গিয়ে মারধর করলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার কাজিহাটা মহল্লার বাসিন্দা। এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ঘরবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। বৃহস্পতিবার বিকালে কাজিহাটা মহল্লার সুলতান আলম সেলীমের বাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রতিপক্ষরা সুলতানের স্ত্রী আসমাউল হুসনা শিখা, মেয়ে ডা. রেবেকা সুলতানা ও ছেলে শাহিনুল ইসলামকে মারপিট করেন। ডা. রেবেকা সুলতানা রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার। আর শাহিনুল রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ছাত্র। আতঙ্কে তারা এখন বাড়ির বাইরে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।
আসমাউল হুসনা শিখা জানান, ২৫ বছর আগে জমি ক্রয় করে তিনি দোতলা বাড়ি করেছেন। এখন তৃতীয় তলার কাজ শুরু করেছেন। এই কাজ করতে দেখে পাশের জমির মালিক টিপু, বজলু ও ডাবলু এখন দাবি করছেন, আসমাউল হুসনাদের বাড়ির ভেতরে তাদের তিন ফুট করে জায়গা আছে। নিচের দিক ভেঙে না নিলে তারা বাড়ির ঊর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ করতে দেবেন না। তবে তিনতলার কাজের জন্য তাদের রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমোদন আছে। প্রতিপক্ষদের বাধা দেখে তারা থানায় গিয়ে মৌখিক অনুমতি আনেন।
এরপর কাজ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে তৃতীয় তলায় যখন কাজ চলছিল তখন প্রতিপক্ষরা এসে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। তারা বাড়ির দোতলায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিকদের মারপিট করে নামিয়ে দেন। এর প্রতিবাদ করলে আসমাউল হুসনা ও তার ছেলে-মেয়েকে মারধর করা হয়। মুখে ঘুষি মারার পর আসমাউল হুসনা জ্ঞান হারালে প্রতিপক্ষরা পালিয়ে যান।
আসমাউল হুসনা জানান, মারপিটে আহত হওয়ার পর তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করেন। এরপর রাজপাড়া থানায় মামলা করতে যান। তবে পুলিশ মামলা নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের এক নেতা প্রতিপক্ষদের ইন্ধন দিচ্ছেন। এ ছাড়া রাজশাহীর এক সংসদ সদস্য তাদের প্রতিবেশী। তিনিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার জন্য থানায় বলেছেন। তাই পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। পরিবারটি থানায় এসেছিল। একটা অভিযোগ দেওয়ার কথা। পরে তারা আর আসেন নি। অভিযোগ নিয়ে আসলে নেওয়া হবে। মামলা না নেওয়ার জন্য কারো চাপ নেই বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।