নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পাঠানপাড়ায় পুর্ব শত্রুতার জেরে ধারালো হাসুয়া, জিআই পাইপ ও লোহার রড দিয়ে একজনকে মাথায় আঘাত করে মারাত্বকভাবে জখম করে। আহত ব্যক্তি নগরীর পাঠানপাড়ার হাবু শেখ এর ছেলে রুবেল। এ নিয়ে আরএমপি বোয়ালিয়া মডেল থানায় রুবেলের ভাই নূর আলম সাগর বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় চলতি মসের ১২ তারিখ রাত আনমানিক ৮টার দিকে পাঠার পাড়ার উম্মাদ আলীর দোকানের সামনে হোসনী গঞ্জের জনির ছেলে নিলয়, পাঠান পাড়ার শাহিনের ছেলে তুহিন ও ঈমন, হোসনীগঞ্জের আজমের ছেলে জনি ও পাঠানপাড়ার জামালের ছেলে জীবনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ মিলে রুবেলের উপরে হামলা করে।
এ সময়ে আঘাত পেয়ে রুবেল চিৎকার শুরু করলে আশে পাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। এসময়ে আমাসীরা তাঁকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিতে দিতে চলে যায় বলে উল্লেখ করেছেন। রুবেল বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ক্ষত স্থানে ভিতরে ও বাহির মিলে মোট ১৯টি সেলাই পড়েছে বলে মামলার বাদি সাগর জানান। সাগর আরো বলেন, একদিকে পূর্ব শ্রত্রুতার জের, আরেকদিকে তার বোনের মেয়েকে রাস্তাঘাটে উক্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করায় তারা এই হামলা চালিয়েছে।
রাজশাহী রিভারভিউ স্কুলের নবম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত সাগরের ভাগ্নি তাসনিম তাবাসসুম বলেন, ৫-৬ মাস হলো আসামী জনির ছেলে নিলয় তাকে রাস্তাঘাটসহ যেখানেই পায়, সেখানেই নানা বাজে কথা বলে যৌন হয়রানী করে এবং প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মুখে এসিড মেরে ঝলসে দেয়া এবং জোর করে তুলে নিয়ে যাবে বলে হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাসনিম। নিলয় ও তার বন্ধুদের ভয়ে তিনি এখন স্কুল, কোচিং ও প্রাইভেটে যেতে পারছেন না। এই কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের কারনে তার লেখাপড়া বন্ধ হতে বসেছে বলে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন তিনি।
এদিকে তাসনিমের বাবা সাব্বির আহম্মেদ রোজার্স বলেন, তিনি মেয়ে ও তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় আছেন। বেশ কিছুদিন হলো আসামীরা আরো অন্যান্য ছেলেদের নিয়ে এসে বাড়িতে চড়াও হচ্ছে। গত শুক্রবার ১২ নভেম্বর তার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও তারা তাদের বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। এনিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় পূর্বে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন কাজ হচ্ছেনা বলে জানান তিনি।
রোজার্স আরো বলেন, নিলয় ও তার পিতাকে অত্র এলাকার কথিত পুলিশের সোর্স তানভীর অভয় দিচ্ছেন এবং পুলিশের যত ঝামেলা আছে তিনি দেখবেন বলে নিলয়কে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও মেয়ের লেখাপড়া করার স্বার্থে নিলয়সহ সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করেন তিনি ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এবিষয়ে আরএমপি বোয়ালিয়া থানার ওসি তদন্ত আব্দুল লতিফ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মারপিটের ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা করেছে। আসামী আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আসামীরা পালিয়ে থাকায় এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। এদিকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।