নিজস্ব প্রতিবেদক: কাশিয়াডাঙ্গা থানা থেকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে মোটরসাইকেলে বুধবার সকাল ৯টায় কাশিয়াডাঙ্গা কলেজে যাওয়ার সময়ে সড়ক দূর্ঘটনায় দুই হারিয়েছেন। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস মহাসড়কের কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত কর্মকর্তা হলেন পবা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও এইচএসসি পরীক্ষার কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার সুলতানুল ইসলাম (৫৪)। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকেরা জানান, তার জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে। মাথার পেছনের অংশ ও বাম চোখেও গুরুতর আঘাত রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই কাশিয়াডাঙ্গা কলেজসংলগ্ন এলাকায় নেমে আসে শোক ও ক্ষোভ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
তাদের অভিযোগ, কলেজের সামনে পুলিশ বক্স থাকলেও কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং কিংবা পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক পারাপার করলেও দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশ বক্সের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, নিয়মিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আহত কর্মকর্তার সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্পিড ব্রেকার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এবিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং তাঁদের সবাইকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সুলতানুল ইসলাম এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। জেলা প্রশাসক এর নির্দেশনায় আহত কর্মকর্তার চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।
এ ঘটনায় আহত কর্মকর্তার ছোট বোনের স্বামী আজাহার ইসলাম বাদী হয়ে ট্রাকচালক রতন রায়ের বিরুদ্ধে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে এবং চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ আলী জানান, দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সরকারি মোটরসাইকেলে পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হন সুলতানুল ইসলাম। কলেজের সামনে পৌঁছালে যশোর ট-১১-৩০১৩ নম্বরের একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। তিনি সড়কে ছিটকে পড়লে ট্রাকটি তাঁর দুই পা ও মোটরসাইকেলের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে চালক, ট্রাক ফেলে পালিয়ে যান। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।