নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বেলা ১২টা দিকে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে গত ১৩ জুন ২০২৫ ইং তারিখ শ্রীপাট খেতুরী ধাম প্রেমতলী, গোদাগাড়ী রাজশাহীতে হিন্দু ও আদিবাসী সনাতনী সম্প্রদায়ের মিলন মেলা ও আলোচনা সভার আয়োজনে হামলার প্রতিবাদ ও অনুষ্ঠান স্থগিত করার বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন হিন্দু ও আদিবাসী সনাতনী সম্প্রদায়ের মিলন মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান কল্যান ফ্রন্ট গোদাগাড়ী উপজেলা, শাখার সভাপতি উপেন্দ্রনাথ মন্ডল। তিনি বলেন, গত ১৩ জুন ১০ থেকে ১২ হাজার ভক্তগণের জন্য খেতুরী ধামে মহাপ্রসাদ বিতরণের লক্ষে প্রসাদের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। এই অনুষ্ঠান সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রসাদ সামগ্রী খেতুরী ধামে নিয়ে গেলে, খেতুরী ধামের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও ম্যানেজার গোবিন্দ চন্দ্র পাল খেতুরী ধামের গেট বন্ধ করে দেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন অনেক অনুরোধ ও বোঝানোর পর গেট খুলে দিলেখেতুরী ধামের ভিতরে প্রসাদ সামগ্রীসহ অন্যান্য জিনিসপত্র বেলা ২টার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শ্রীপাট খেতুরী ধামের ভিতরে প্রসাদের আয়োজনের ব্যবস্থা করা হচ্ছিলো। এসময় গোদাগাড়ী উপজেলার ৬নং মাটিকাটা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি এহসানুল কবির টুকু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ম্যানেজার গোবিন্দ চন্দ্র পালকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও মারপিট শুরু করে। এ সময়ে বৈষ্ণব সৎ সংঘ গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সহদেব কুমার পান্না এগিয়ে আসলে তাকে মারতে মারতে মন্দির থেকে বের করে দেন তারা। এতে হিন্দু ও আদিবাসী সনাতনী সম্প্রদায়ের উপস্থিত সকলে আতঙ্কিত ও ভয়ে শ্রীপাট খেতুরী ধাম থেকে চলে যায়। এমতাবস্থায় জীবনের নিরাপত্তা ও ঝুঁকির কারণে হিন্দু ও আদিবাসী সনাতনী সম্প্রদায়ের মিলন মেলা অনুষ্ঠান তাৎক্ষনিক ভাবে স্থগিত করা হয় বলে জানান তিনি। তিনিসহ উপস্থিত সকলেই টুকুসহ সকল সন্ত্রাসীদের বিচার দাবী করেন।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি প্রণয় কুমার দাস (আলো মাস্টার) প্রেমতলী এলাকার সুজন পাল, বৈষ্ণব সৎ সংঘ গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সহদেব কুমার পান্না, গড়াইত বাইসী পরিষদ গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মলিন সরদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মারপিট ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার ৬নং মাটিকাটা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি এহসানুল কবির টুকুরনকিট জানত চাইলে তিনি বলেন, চলতি মাসের ১০তারিখের দিকে রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার এই অনুষ্ঠানের কথা বলেন এবং প্রধান অতিথি কে থাকবেন তাও বলেন। সেইসাথে তাঁকে অনুষ্ঠানে থেকে সহযোগিতা করার জন্য বলেন। সেসময়ে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই অনুষ্ঠান সফল করতে তিনি ১২ জুন রাজশাহীতে আসেন এবং ৩-সাড়ে ৩টার দিকে খেতুর ধামে যান এবং আয়োজন সম্পর্কে দেখভাল করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, সেখানে মঞ্চ তৈরী হচ্ছিল। মঞ্চ তৈরীতে গ্রোগ্রাম ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি সহদেব ও গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি নিরেন্দ্র নাথ খালকো কাজ করছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলেন মাত্র। সে সময়ে সেখানকার ম্যানেজার গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। কাউকে সেখানে মারপিট করা ও প্রসাদ নষ্ট করা হয়নি। খেতুর ধামের সকল সি.সি ক্যামেরা ফুটেজ তার প্রমান বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এই সখর মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে অপপচারকারীদের শাস্তির দাবী জানান টুকু।