নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬ টায় ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না— রাজিউন)। বুধবার বেলা দুইটায় সংসদ ভবন এলাকায়া তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তাঁকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় একই সময়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আয়োজনে ও বোয়ালিয়া থানা(পূর্ব) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন এর সার্বিক তত্বাবধানে রাজশাহী মহানগরীর টিকাপাড়া ঈদগাহ ময়দানে বেগম জিয়ার গায়েবী জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেইসাথে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
জানাযায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, বোয়ালিয়া থানা(পূর্ব) বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম রিঙ্কু, বিএনপি নেতা আমিরুল ইসলাম রঞ্জু, রুবেল, ভূগোল, ইসলাম ও আকতারসহ রাজশাহী মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শত শত সাধারণ জনগণ।
জানাযা পূর্ব বক্তব্যে এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কোনদিন অন্যায়ের সাথে আপোস করেননি। তিনি দেশের মানুষকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। এজন্য তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। শত নির্যাতন সহ্য করে তিনি দেশে থেকেছেন। তিনি স্বৈরাচার এরশাদকে বিতারিত করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বেগম জিয়াকে পাঠিয়েছিলো খুনি হাসিনা। অসুস্থ হলে তাঁকেও চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। লোক দেখানো চিকিৎসা দেয়া হতো বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বার বার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে নেয়ার আবেদন করলেও ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনা তাঁকে বিদেশে নিতে দেয়নি। তিলে তিলে মারার জন্য কারাগারে স্লোপয়জোনিং করেছিলো। যার ফল হচ্ছে বেগম জিয়ার মৃত্যু। আর এই মৃত্যুর জন্য দায়ী সরাসরি খুনি হাসিনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্য শেষে গায়েবী জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে একই সময়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জোহরের নামাজের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজ পড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সহকারী ইমাম হাফেজ মাওলানা সাহাজুল ইসলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দীনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকরা অংশ নেন।
উপাচার্য প্রফেসর সালেহ হাসান নকীব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের নেতা। তার মৃত্যুতে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলো। তিনি যে রাজনৈতিক শিষ্টতা দেখিয়ে গেছেন তা সবার জন্য অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে যোহর নামাজ পরে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।