নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্পত্তি লিখে না দেয়ায় রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রা জামালপুর এলাকায় ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক দাদা-দাদীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক নাতির বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে নির্যাতিত সোহরাব আলী মন্ডলের (৬৮) বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের নিকট তিনি অভিযোগ করে বলেন, আপন বড় নাতি নিয়ামুল হাসান রাতুল, তাঁর জমি লিখে নেয়ার জন্য তাঁকে এবং ও তাঁর স্ত্রীকে বেশ কিছুদিন থেকে অমানবিক-নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে আরএমপি চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
সোহরাব মন্ডল বলেন, তিনি দীর্ঘদিন দিনমজুরের কাজ করে আড়াই কাঠা জমির উপরে একটি ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন। কিছুদিন আগে তাঁর বড় ছেলে সোহেল রানা তুহিনের বড় ছেলে, রাতুল ও তার স্ত্রী নাটোরের বনপাড়া বড়ইগ্রাম থেকে রাজশাহীতে বেড়াতে আসেন। পরে রাতে প্রথমে তাঁর স্ত্রীকে (দাদিকে) ডেকে নিয়ে ঘরের বাহিরে যান রাতুল। এরপর বাড়িসহ জমি লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন দাদীর উপরে। দাদী অস্বীকৃাতি জানালে সেখানেই তাঁকে একাধিকবার মারিপট করেন রাতুল। এরপর ঘরে এসে তাঁকে জমি লিখে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকেও গলা টিপে ধরেন এবং মাথায় ও নাকে পানি ঢেলে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন বলে জানান সোহরাব মন্ডল।
এ অবস্থায় তাঁকে রাতুল আবার তার দাদীর নিকট গেলে তিনি রাত তিনটার দিকে কোনমতে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পালিয়ে মেয়ের বাড়ি চলে যান বলে জানান। দীর্ঘ এক মাস তিনি সেখানে থাকেন। চার থেকে পাঁচবার এই ধরনের ঘঠনা রাতুল (নাতী) ঘটিয়েছে। সেইসাথে বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, জানালা ও দরজাসহ ঘরে সমস্ত কিছু ভেঙ্গে চলে গেছে বলে জানান তিনি।
সোহরাব আরো বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবাইকে সম্পত্তির অংশ দেবেন। কিন্তু রাতুল তাঁর মেয়েদের সম্পত্তি দিতে দেবে না। তাঁর নাতি রাতুল মাদকাসক্ত। একাই এই সম্পত্তি দখল করে নেয়ার জন্য এই ধরনের আচরণ করছেন। তাঁর এই সম্পত্তি লিখে নিতে মাঝেমধ্যেই চাপ দিতো। এছাড়াও প্রতিনিয়িত প্রান নাশের হুমকী দিয়ে আসছে। কোনভাবেই একজনকে তিনি সব সম্পত্তি লিখে দেবেন না বলে জানান সোহরাব।
এবিষয়ে নাতী নিয়ামুল হাসান রাতুল বলেন, তিনি সব সম্পত্তি লিখে নিতে চান নি। বরং তার দুই ফুপা তাঁর অংশ না দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকে বলে জানান রাতুল। এ ব্যাপারে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমরান হোসেন বলেন, সোহরাব আলী মন্ডল তার নাতির বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এখন থানা কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।