নিজস্ব প্রতিবেদক: মে মাসের ৩ তারিখ মুসলমানদের সব থেকে বড় উৎসব ঈদ-উল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ দুই বছর কোভিড-১৯ এর কারনে কেউ ভালভাবে ঈদ করতে পারেননি। সকল প্রকার পোষাকের মার্কেট বন্ধ থাকায় নতুন কাপড় ছাড়াই বেশীরভাগ মানুষ ঈদ করেছেন। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার প্রভাব না থাকায় মুসলিম জনগণ নতুন কাপড় পরে ঈদ করার জন্য সাধ্যমত বিভিন্ন ধরনের সিট কাপড়, থান কাপড়, থ্রি-পিচ, শাড়ী ও পাঞ্জাবীর কাপড়সহ নানা প্রকার কাপড় ক্রয় করছেন। আবার কেউ কেউ শাড়ী কিনেছেন। এর সাথে ম্যাচিং করে রøাউজ ও পেটিকট তৈরীর জন্য ম্যাচিং কর্ণারে ভীড় করছেন।
এছাড়াও জামাই থেকে শুরু করে নিজেদের জন্য শার্ট পিচ ও প্যান্ট পিচ ক্রয় করছেন। এমনি ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন, আরিফুল হক ও মশিউর রহমান এবং ডেইজি, লাবণী, আনোয়ারা ও ফৌজিয়া সহ আরো অনেক ক্রেতা বলেন, এবারে সকল ধরনের কাপড়ের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। করোনার ধকল কাটিয়ে না উঠতেই নিত্যপন্য সহ সকলর পন্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা সংসার পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন । এর মধ্যে ঈদে সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগ করতে নতুন পোষাকের জন্য কাপড় কিনতে এসে বাজেটের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে পারছেন না বলে জানান তারা।

জনতা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সারওয়ার হোসেন পলাশ, ইছলা ক্লথ স্টোরের মালিক এনামুল হক ও রহমান এন্ড সন্স এর আরিফুল হকসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বলেন, এবারে সকল কাপড়ের দাম বেশী হওয়ায় ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা বিপাকে পড়েছেন বেশী। এছাড়াও যাকাতের কাপড়ের দামও বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছরে বেচাকেনা খুব ভাল হবে বলে মনে হচ্ছেনা। রোজার ছয়টা চলে গেলেও ব্যবসা তেমন শুরু হয়েছিলো না। তবে শনিবার থেকে ব্যবসা শুরু হলেও দামের কারনে কাস্টমাররা কাপড় ক্রয় করতে পারছেনা বলে জানান তারা।
এদিকে রাজশাহী বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অশোক কুমার সাহা বলেন, বারংবার সুতা, জালানী তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বস্ত্র ব্যবসায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রতিটি সিট কাপড়ের দাম রকম ভেদে ২০ থেকে ৮০ টাকা গজে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও শাড়ী কাপড়ে ২০০- ২৫০টাকা এবং থ্রি-পিচ ও টু-পিচেও ১৫০-২৫০টাকা পর্য়ন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে । এতে করে এই রোজায় কতটা ব্যবসা হবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, গত দুই বছর করোনার কারনে ব্যবসা করতে পারেন নি। এবার আবার দাম বেশী হওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। এ খাত বাঁচাতে কাপড়ের কাঁচা মাল এবং সুঁতার উপরে থেকে শুল্ক কমানোর আহবান জানান এই নেতা।

এদিকে রাজশাহী বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামীম আহম্মেদ বলেন, ব্যবসা মোটামোটি শুরু হয়েছে। তবে দাম বেশী। মোকামেও টাকা দিয়ে পছন্দের কাপড় পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানান তিনি। আইনশৃংখলার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের মার্কেটে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত ব্যবসা করলে ক্রেতাদের কোন প্রকার সমস্যা নাই বলে জানান তিনি।