নিজস্ব প্রতিবেদক: সোমবার উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশে উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর পালিত হয়। নামাজ শেষে এই ঈদে অন্য কাজ না থাকায় জনগণ ছুটে যান বিনোদন কেন্দ্র ও স্থানগুলোতে। রাজশাহী মহানগরী ঘেষে রয়েছে পদ্মা নদী। এই পদ্মা নদীর নির্মল বাতাস উপভোগ করতে বিনোদন পিপাসুরা ছুটে যান সেখানে। আর এই বিনোদনে কেউ যেন ছেদ ঘটাতে না পারে সেজন্য কঠোর নজরদারী ও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ সহ অন্যান আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। ঈদের ছুটি এবার সব থেকে বেশী হওয়ায় জনগণ ইচ্ছামত আনন্দ করছে পরিবারের সদস্যদেও নিয়ে। এছাড়া জেলা ও জেলার বাহিরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে আসছে ভ্রমন পিপাসুরা।
পদ্মা নদী পাড়ে ও চরে যেন মানুষ নির্বিঘ্নে ঘুড়তে ও আড্ডা দিচ্ছে ভ্রমন পিপাসুরা। সন্ধ্যা থেকে কিছুটা রাত অবধী পদ্মাপাড়ে ও চরে নির্বিঘ্নে বসে বিনোদন করতে পারছেন। কারণ এবার নেই পতিত সরকারের আমলের চোখ রাঙ্গানি। এজন্য নির্বিঘ্নে তারা আনন্দ করছে।
পদ্মার নীল পানি, চরের সবুজ ফসল, নৌকা ভ্রমন, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সূর্যাস্তের দৃশ্য, বীচ চেয়ার ও ঘোড়ার গাড়ি ভ্রমন পর্যটকদের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দূর দুরান্ত থেকে আগত এবং স্থানীয় বিনোদন প্রেমিদের ভ্রমনকে নিরাপদ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। পাশের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে আগত শাহীন, স্থানীয় বিনোদন প্রেমিদের মধ্যে পলাশ, আবুল হোসেন, আইভি জামান, তানজিলা, রিতা, পিটার ও রোজি খাতুনসহ আরো অনেকে বলেন, আশেপাশের জেলা ও রাজশাহীবাসীর সব থেকে প্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হচ্ছে পদ্মা নদীরপাড় ও চর।
সারা সপ্তাহ কিংবা মাসের ক্লান্তি মিটাতে পদ্মাপাড় ও চরের কোন বিকল্প নাই। এখানকার নির্মল বাতাসে প্রান জুড়িয়ে যায়। প্রান ভরে নিঃশ্বাস নেয়া যায়। এই বাতাসে নেই কোন প্রকার ক্ষতিকারক পদার্থ। আর এই সবগুলো বিনোদন ও নির্ভেজাল অক্সিজেন নিচ্ছেন তারা প্রান ভরে। নগরীর আইসিটি পার্ক থেকে শুরু করে মতিহার থানার নদীরপাড় পর্যন্ত ভ্রমন পিপাসুর ভীড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এছাড়াও ছোট ছোটদের শিশুদেরও দেখা যায় আনন্দ করতে। সেইসাথে বিক্রি বেড়েছে মুড়ি ভাজা থেকে শুরু ফুসকা ,চটপতি ও বিভিন্ন ফলের মাখনো দোকানে। তারা এবার খুশি।
ব্যাবসায়ীরা বলছেন ঈদের ছুটি বেশী হওয়ায় তারাও ব্যবসা করে শান্তি পাচ্ছে। প্রায় সকাল থেকেই তাদের ব্যবসা শুরু হচ্ছে। বিকেল থেকে তারা অবিরাম বিক্রি করছেন। কোনভাবেই তারা একটু বিশ্রাম পাচ্ছেনা বলে উল্লেখ করেন তারা। সেইসাথে বেড়েছে নৌকা ভ্রমন।