নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ‘শিক্ষক লাঞ্ছনার’ অভিযোগ তুলে তৃতীয় দিনের মতো শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো ক্যাম্পাস। ক্লাস পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হল ও মেসে থেকে বাড়ি চলে যাওয়ায় পুরো ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মীর কাদির বলেন, এমনিতে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি আছে। তার আগে এই কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী আগে ভাগেই বাড়িতে চলে যাচ্ছে। এই কারণে পুরো ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
এদিকে শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সকাল থেকেই শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের একটি অংশ। তারা বলেন, দৃশ্যমান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষনা দেন।
রাবি অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, কমপ্লিট শাটডাউনের কারণে জরুরি পরিষেবা ব্যতিত প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থী নামধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখছি না।
তিনি বলেন, গত ২ জানুয়ারি শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ১০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। গত ২০ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তা যে আলোর মুখ দেখবে তা নিয়ে তারা সন্দিহান। তাই দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী সন্ত্রাসীদের ছাত্রত্ব বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এদিকে রাকসু নির্বাচনের পূর্বে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউননের কারণে ক্যাম্পাস স্থবির হয়ে পড়ায় রাকসু নির্বাচন ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।