মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পবা ইউএনও এর উদ্যোগে দীর্ঘ ২২ বছরের দুর্ভোগ কাটল এক দিনে নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

শহীদ কামারুজ্জামান ছিলেন সততা ও যোগ্য রাজনীতিকের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত : ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

  • প্রকাশ সময় রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২
  • ৫৭৪ বার দেখা হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনীতিক ও কর্মময় জীবন নিয়ে ‘তোমার কীর্তি তোমাকে করেছে মহান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের আয়োজনে রোববার বিকেলে সিএন্ডবি মোড়স্থ শহীদ কামারুজ্জামান মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ কামারুজ্জামানের সুযোগ্যপুত্র আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ৫২ বছর ৪ মাস ৮ দিনের স্বল্পময় জীবনে শহীদ কামারুজ্জামান ব্যক্তিগত সততা আর যোগ্য রাজনীতিকের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত ছিলেন। বরেন্দ্রবন্ধু, উত্তরের নক্ষত্র কামারুজ্জামান ব্যক্তি ও রাজনীতিক হিসেবে এখন বিরলপ্রজ। এই তিনি স্মরণে বরণ্ঠের আবরণে চিরসমুজ্জ্বল। ব্যক্তি নেতা আর গণমানুষের মিথস্ক্রিয়ায় উদ্দীপ্ত আর আলোকিত ছিল তার যাপিত জীবনের প্রতিটি ক্ষণ আর রাজনীতিক কর্মকাণ্ডের অনুক্ষণ। তার কর্ম-কৃতি অনুসরণে বলতে ইচ্ছে করে জীবনে মানুষের কল্যান বই অকল্যানকর কিছু ভাবনার তাড়নায় তাঁর জীবনে ছিল বলে তথ্য-প্রমাণ নেই।
প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, সৎ মানুষ রাজনীতিক শহীদ কামারুজ্জামান। তিনি কখনও স্বার্থপর হননি, মুখোশও পরেননি কোনদিন। তিনি মুখ নিয়েই রাজনীতি করেছেন আজীবন। তাঁর সততা নিয়ে অনেক কথাই বলা যায়। কিন্তু প্রমাণে আছে আজীবন ক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান করেও ঢাকায় তার নিজস্ব কোন বাড়ি ছিল না। তাঁর মৃত্যুর পর দুটি ব্যাংকের হিসাবে পাওয়া গিয়েছিল মাত্র ১৫/১৬ হাজার টাকা। মৃত্যুর পূর্বে তিনি জেলখানায় স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘আমাকে তো মোশতাক মেরে ফেলবে, আমাকে কিছুতেই বাঁচতে দেবে না।

আমার মৃত্যুর পর আমার সন্তানদের কী অবস্থা হবে? আমার তো কিছুই নেই।’ তাঁর বিত্তের বৈভব ছিল না ঠিকই, তবে ছিল চিত্তের সম্পদ। দুটি বিষয় লক্ষনীয়। এক: রাজনীতি এবং অসাম্প্রদায়িকতা পরিবারেরর ঐতিহ্যে বিরাজমান ছিল, যার ধারক-বাহক ছিলেন শহীদ কামারুজ্জামান। সুতরাং তিনি ছিলেন পারিবারিক ঐতিহ্যলগ্ন রাজনীতিক। দুই: জমিদার বংশের হয়েও তিনি আমজনতার কথা ভাবতেন, তাদের জন্য রাজনীতি করতেন। এমন এক দৃষ্টান্ত জ্যোতি বসু, যিনি পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বহুদিন। শহীদ কামারুজ্জামান মানুষের রাজনীতিক হয়েছিলেন, তাঁর কাছে উপরতলা আর নীচতলা সব সমান ছিল। দুজনেই ছিলেন কিংবদন্তীতুল্য সৎ।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, শহীদ কামারুজ্জামান রাজনীতি করতে সুনির্দিষ্ট ধারণা লালন করেন। তাঁর রাজনীতির দুটো পাটাতন ছিল। এক, বাঙালি জাতীয়তাবাদ। দুই, বাঙালির মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রে অবিচল আস্থা। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু ছিলেন অভিন্ন রাজননৈতিক চেতনার অধিকারী। আর সেকারণে দুজনের পারস্পারিক আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। শহীদ কামারুজ্জামান ৩৩ বছরের রাজনীতিক জীবনে কোন নির্বাচনে পরাজিত হননি। শহীদ কামারুজ্জামান একজন সৎ এবং নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিকের প্রতিকৃতি এবং সেকারণেই তাঁর ওপর বঙ্গবন্ধুর আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। দুজনের নৈকট্য ছিল নীতি ও আদর্শের।

তিনি আরো বলেন, শহীদ কামারুজ্জামান ‘৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর খুনি মুশতাক এর এর সমর্থনের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে বলেছিলেন ‘‘যেখানে বঙ্গবন্ধু বেঁচে নেই, সেখানে আমার বেঁচে থাকার কোন প্রয়োজন আছে কি?’ ফল হলো ৩ নভেম্বরের জঘন্য হত্যা। নির্দেশদাতা ছিল স্বয়ং খুনি মুশতাক।
সভায় রাজশাহীর প্রশংসা করে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজশাহীতে বদলে দিচ্ছেন শহীদ কামারুজ্জামানের পুত্র রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। অনেকটাই বদলে গেছে রাজশাহী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। বক্তব্য দেন শহীদ কামারুজ্জামানের পুত্রবধূ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, উপদেষ্টা ও কবিকুঞ্জ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামাণিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফায়েক উজ্জামান, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর ইকবাল, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, কবি আরিফুল কুমার। সঞ্চলনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধ নওশের আলী।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin