নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুরোধা ও উন্নয়নের রুপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি’র আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বিকেলে চারঘাটের মাড়িয়া এলাকার একটি ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ।
উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার, সদস্য আমিনুল হক মিন্টু ও জাকিরুল ইসলাম বিকুল। এছাড়াও চারঘাট উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক অধ্যক্ষ আবদুল কুদ্দুস ও নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানসহ সকল ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশ নামে কোন ভূখন্ড তৈরী হতনা। সারাজীবন পরাধিনতার গ্লানী নিয়ে বাঙালীকে বেঁচে থাকতে হত। পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) যখন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী দখল করতে এবং নিজেদের আয়ত্বে রাখতে নিরাপরাধ মানুষের উপর হত্যাযোগ্য শুরু করে তখন প্রানের ভয়ে বড় বড় আওয়ামী লীগ নেতারা পার্শবর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যেয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে থাকেন। অথচ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই অসহায় মানুষের পাশ দাঁড়ানোর জন্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসেন এবং জনগণকে রক্ষা করতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
তিনি আরো বলেন, তাঁর ঘোষনার মধ্যে দিয়ে জনগণ স্বস্তি পায় এবং যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। সেইসকল বীর শহীদদের আত্মত্যাগ ও যুদ্ধাহত ও অন্যান্য বীরমুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কারনে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভুখন্ড তৈরী হয়। সেইসাথে তৈরী হয় লাল সবুজের পতাকা। এই পতাকাকে বিজর্সন দিতে আবারও উঠে পড়ে লেগেছে বর্তমান সরকার। এই সরকার দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করে ফেলেছে। দেশে এখন আর কোন আইনের শাসন নেই। নেই ভোটাধিকার প্রয়োগ। এছাড়াও একনায়কতন্ত্র কায়েম করে সরকার দেশ পরিচালনা করছে। বিরোধীদের ও সাধারণ জনগণের কোন স্বাধীনতা নাই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের রক্ষা করতে প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে। কিন্তু আর এভাবে চলতে দেয়া হবেনা। বেগম জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পূণরুদ্ধার ও আগামী নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে করার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই আন্দোলনে সকলকে সক্রিয় অংশগ্রহন করার আহবান জানান তিনি। সেইসাথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন সভাপতি।
বক্তব্য শেষে বেগম জিয়ার সুস্থ্যতা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ সকল মৃত নেতৃবৃন্দ, ও অসুস্থ নেতাকর্মীর সুস্থতা এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ।