নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যমান সার নীতিমালা বহাল রাখার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন(বিএফএ) এর নেতৃবৃন্দ। সোমাবার দুপুরে রাজশাহী জেলা ষ্টেডিয়াম মার্কেট এর ২২নং, বাস্কেট গ্রাউন্ড বিপনী কেন্দ্রে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সার বিক্রয়মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সার বিক্রয়মূল্য নির্ধারণে সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত কক্তব্য পাঠ করেন ফার্টলাইজার এসোশিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম। তিনি উল্লেখ করেন রাজশাহী জেলায় মোট ইউনিয়ন ও পৌরসভা ৮৬টি এবং জেলায় বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে ৮৯ জন এবং বিএডিসি ডিলার ১৩১ জন। সার ডিলার নিয়োগ ও সমন্বিত নীতিমালা ২০০৯ মোতাবেক প্রতিটি ইউনিয়নে ১ জন সার ডিলার নিয়োগ এর বিষয়ে বলা হয়েছে। বর্তমানে নিয়োজিত বিসিআইসি ডিলারগণ তার ব্যবসায়িক ইউনিয়নে বিগত ৩০ বৎসর যাবৎ সুনামের সহিত কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ অব্যাহত রেখেছেন। বিদ্যমান সার ডিলারগণ সরকারের সুষ্ঠু সার ব্যবস্থাপনায় এবং জাতীয় খাদ্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ জন পূর্বের নিয়োগকৃত বিসিআইসি সার ডিলারগণকে বহাল রাখার দাবি জানান জানানো হয়।
তিনি আরো উল্লেখ করেন ১৯৯৬ সাল হইতে বর্তমান পর্যন্ত সার বিক্রয়ে কমিশন বৃদ্ধি করা হয় নাই। ডিলার প্রথা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ টাকা কমিশন দেওয়া হয়। বর্তমানে জ্বালানী তেলের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গোডাউন ভাড়া, কর্মচারী বেতন, লোড-আনলোড খরচ, ব্যাংক সুদসহ আনুসাংগিক যাবতীয় খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধি করা হয় নাই। তারা ১০০/- টাকার পরিবর্তে ২০০/- টাকা বৃদ্ধির জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয় বিসিআইসি ডিলারগণ সব সময় সরকার নির্ধারিত বিক্রয় মূল্যের নিম্নে সার বিক্রয় করে থাকেন। যেমন- ইউরিয়া বিক্রয় মূল্য ১৩৫০/- টাকা, অথচ মাঠ পর্যায়ে বিক্রয় হচ্ছে ১৩১০ থেকে ১৩২০ টাকা। একই সাথে টিএসপি ও এমওপি ও ডিএপি সমুদয় সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিলারগণ বিক্রয় করে থাকেন। এছাড়াও বিসিআইসি ডিলার ব্যতিরেকে অন্যান্য কিছু সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠান মাঠ পর্যায়ে সার বিক্রয় করে থাকেন, তাদের বিক্রয় সম্পর্কে তারা অবগত নন।
তারা বলেন, বিদ্যমান সার ডিলারদের ডিলারশীপ বহাল রাখতে হবে। একই পরিবারে যদি বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-ভাই পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান থাকে এবং সরকারের চাহিদা মাফিক প্রয়োজনীয় দলিল দস্তাবেজ উপস্থাপন কিংবা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়, তবে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক নিয়ম মোতাবেক ডিলারশীপ বহাল রাখতে হবে। যদি তা না করা হয় তাহলে ৩০ বছর ধরে তারা যে ব্যবসা করছে তাদের ব্যাংকের কাছে কোটি কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। কৃষকদের নিকট বাকী রয়েছে, এছাড়া গোডাউন এ পর্যাপ্ত মাল অবিক্রিত রয়েছে এগুলোর দায়ভার কে নিবে।
শুধু তাইনয় সরকার কর্তৃক ভূতর্কি মূল্য কৃষক পর্যায়ে সার বিক্রয় করা হয়। এধরনের সারের উপর কোন ভাবেই উৎস কর নির্ধারণ করা যাবে না এবং পূর্বেও ছিলো না। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যথায় সারের বাজার অস্থিতিশীল হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সারের মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে তারা জানান। এ সময়ে বিএফএ এর রবিউল ইসলামসহ অত্র এসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্য, ডিলার ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।