রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল এর ২০০ বছর পূর্তিতে আলোচনা সভা প্রধানমন্ত্রী জাতিকে সকল দিক থেকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহী কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল এসোসিয়েশনের সনদ ও নগদ অর্থ বিতরণ গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক অনুষ্ঠিত পবা-মোহনপুরকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: এমপি মিলন খাদ্যশস্যে সমৃদ্ধ এবং জনকল্যাণেই খাল খনন ও সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে: এমপি মিলন পবার হরিয়ানে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ প্রশাসক ঈশাকে মোহনপুর বিএনপির সম্মাননা প্রদান খেলাধুলা তরুণ সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে: এমপি মিলন রাষ্ট্রীয় সফরে রাজশাহীতে দুই মন্ত্রী ॥ শাহ মখদুম বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা

সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৭ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: “রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য।” ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে, তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা সহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin