নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এক্ষেত্রে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পবা-মোহনপুরের স্বার্থই হবে সর্বাগ্রে। এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন অবহেলিত। উন্নয়নের নামে এখানে কেবল লোক দেখানো কাজ হয়েছে। প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি জনগণের দল। এই এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হবে তাদের প্রথম কাজ। কৃষক যেন তার ফসলের ন্যায্য দাম পান, মৎস্যজীবী যেন নিরাপদে মাছ ধরতে পারেন, শ্রমজীবী মানুষ যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন এই প্রতিশ্রুতিই বিএনপির অঙ্গীকার।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বড়গাছী কুঠিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখার আলোকে মৎস্যজীবী ও কৃষিজীবীদের নিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা বাংলাদেশকে দোজখের দোড়গোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলো। মানুষ সবর্দা ভয়ে ততস্ট থাকতো। জনগেণর ভোটসহ সকল অধিকার হরণ করেছিলেন ঐ পতিত সরকারের প্রধান। তিনি ছিলেন একক ভোটার। তার নির্ধেশে এম.পি, মেয়র ও চেয়ারম্যান হতো। বিএনপি সেই হারানো ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে বিএনপি দীর্ঘ সতের বছর সংগ্রাম করে আসছে। এ সংগ্রমা এখনো শেষ হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এগুলো ফিরিয়ে দিলেই দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্র দুটোই পুনরুজ্জীবিত হবে।

তিনি আরো বলেন,“বাংলাদেশের মৎস্য ও কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। অথচ আজ এই দুটি খাতই অবহেলিত। বর্তমানে দেশের মাছ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষকের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের পণ্যের দাম কমে যায়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবীদের পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বিশেষ নীতিমালা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন,“বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক তরুণই জানে না, প্রকৃত অর্থে নির্বাচন কাকে বলে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ব্যবসায় পরিণত করেছে, যেখানে জনগণের ভোট নয়, টাকার প্রভাবই মুখ্য হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, কিন্তু সংস্কারের অজুহাতে নির্বাচন পেছানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমদ এর সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন,“বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখায় কৃষি ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং মৎস্যজীবীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আবু হেনা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব শেখ মকবুল হোসেন, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক ও জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ড. মোজাফফর হোসেন মুকুল। সভায় বক্তারা বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখাকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করে আসন্ন নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।

আরো উপস্থিত ছিলেন নওহাটার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটার, বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক (ভিকু), আসরাফ আলী, সদস্য আবিদুর রহমান, জেলা যুবদলের সাবেক যুগব¥ আহ্বায়ক সোহেল রানা, রাজশাহী জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি নাজমুল হক বাবুল, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল নাওহাটা পৌরসভা সভাপতি,আলমাস আলী রেন্টু, পবা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল হোসেন, বড়গাছী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবর আলী, বড়গাছী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন, সদস্য সচিব ওয়াসিম আলী, বড়গাছী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, পবা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম সুইট, নওহাটা পৌরসভা মৎস্যজীবী দল সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন ও পবা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান ও নওহাটা পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রহমান।
এছাড়াও বিএনপি, অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সহস্রাধীক নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।