নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর মানুষ আরেকবার লকডাউনের কবলে পরেছিলো মঙ্গলবার। সকাল ৮টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে এই লকডাউন। তবে এটা করোনা মহামারীর জন্য নয়। বিএনপি’র শোভাযাত্রা ঠেকাতে এই লকডাউন। এতে মানুষ পরে নানা বিড়ম্বানায়। সাহেববাজারে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি কোন প্রকার যানবাহন। সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেটে যেতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় লকডাউন ছিলো গণকপাড়া, মালোপাড়া বিএনপি অফিস, সোনাদিঘী মোড় ও কুমারপাড়া আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস সহ অন্যান্য এলাকাতেও।
এই নজির বিহিন লকডাউনের কারনে বিড়ম্বনায় পরা সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা বলেন, হঠাৎ করে এমন কান্ডের কারনে তারা বিপদে পড়েছে। কোন প্রকার যানবাহন না পাওয়া এবং সরাসরী সাহেব বাজার এলাকাসহ অন্যান্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারায় তারা অনেক সমস্যায় পড়েছে। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলেন, এমনিতে ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, তারপরেও দিনব্যাপি এই বেরিকেটের কারনে জনগণ আসতে না পাড়ায় সারাদিন তারা কোন প্রকার বেচাবিক্রি করতে পারেনি। আগামীতে এই বিষয়টি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেয়ায় জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি অুনরোধ করেন পথচারী ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে রাজশাহীতে সব ধরণের পদযাত্রা কর্মসূচী নিষিদ্ধ সোমবার রাতেই রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাঠানো হয়। আরএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) রফিকুল আলমের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০২৩-এর সিডিউল ঘোষিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে অনুনমোদিত যে-কোনো ধরনের পদযাত্রায় রাজশাহী মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির সমূহ সম্ভাবনা থাকে। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জননিরাপত্তা প্রতিবিধানে মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগরী আইন, ১৯৯২-এর ধারা-৩০ মোতাবেক আরএমপির পুলিশ কমিশনার রাজশাহী মহানগরীতে সব ধরনের পদযাত্রা কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, সকাল ৮টা থেকে রাজশাহী নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্তি পুলিশ। বিশেষ করে নগরীর সাহেববাজার এলাকাসহ বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আরএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) রফিকুল আলম বলেন, রাজশাহীতে পদযাত্রা কর্মসূচী পালন করার অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সিটি নির্বাচন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে তাদের কর্মসূচী পালনের অনুমোতি দেয়া হয়নি। তারা যেন অনুমোতি ছাড়া পদযাত্রা করতে না পারে সে কারণে চলাচালে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বিএনপির পূর্বঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচির কারণে সকাল থেকে মহানগরীর মালোপাড়া এলাকায় বিএনপি কার্যালয়, ভূবনমোহন পার্ক, গণকপাড়া, সোনাদীঘি মোড় ও বাটার মোড় ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলে পুলিশ। মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশেষায়িত টিম সিআরটি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের এপিসি গাড়ি এবং জলকামান। সেইসাথে বিএনপি অফিসের নতুন তালা ঝুলতে দেখা যায়। বিএনপি’র দাবী পুলিশ তাদের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
তালা ঝুলানো বিষয় জানতে চাইলে আরএমপি বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, বিএনপি অফিসে পুলিশ তালা মারেনি।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী তারা ভূবনমোহন পার্ক থেকে জিরোপয়েন্ট হয়ে রেলগেট পর্যন্ত পদযাত্রা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবু সাঈদ চাঁদের ঘটনার কারণে পুলিশ বিএনপি’র কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে। এখন বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অধীনস্থ আদালত এবং সরকারের গায়েবি মামলা, নির্বিচারে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং ১০দফা দাবি বাস্তবায়নে লক্ষ্যে মঙ্গলবার পদযাত্রা কর্মসূচী ঘোষণা করে বিএনপি। শুধু বিএনপি নয় তাদের যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী গণতন্ত্র মঞ্চও এই পদযাত্রা কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে।