বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে শোকের মাতম পদ্মার পানিতে ডুবেছে ঘর, পানিবন্দী মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক শিশুর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান বিএমডিএ’র মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষিত খাতা পুনরায় দেখার অভিযোগ পবা মোহনপুরের প্রতিটা কমিউনিটি ক্লিনিকের আধুনিকায়ন করা হবে পবার চর মাঝার দিয়ারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনীতে : এমপি মিলন রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবীতে নওহাটায় মানববন্ধন অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়নাল এর পাশে বিএনপি নেতা সুলতান আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: বিভাগীয় কমিশনার

গরিবের সংগ্রহ করা কোরবানির গোস্তেও মধ্যস্বত্তভোগীদের থাবা

  • প্রকাশ সময় মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪
  • ২২০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানীর ঈদের দিন দুপুর থেকেব শুর হয় গরীব, দু:খি, ভিক্ষুক ও অসহায় সকল ধর্মের মানুষ শহরের বাসা-বাড়ি থেকে গোস্ত সংগ্রহ করেন। আর সেই গোস্ত বেশীর ভাগ মানুষ বিক্রি করে দেন। কোরবানী দাতারা তাদের খাবারের জন্য দিলেও তারা সে গোস্তের মধ্যে থেকে সামান্য বাড়ির জন্য রেখে বেশীগুলো বিক্রি করে দেন। এজন্য রাজশাহীতে ঈদুল আজহার দিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজার দামের চেয়ে অনেকটা কম দামে সংগ্রহ করা কোরবানির গোস্ত পাওয়া যেত। বাজারদরের চেয়ে ১ থেকে ২শ’ টাকা কমে কেনা যেত গোস্ত । তাই যারা কোরবানি দিতে পারতেন না তারা ঈদের দিন সংগ্রহ করা গোস্তের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে কম দামে গোস্ত কিনতেন।
কিন্তু সেই গোস্তের বাজারেও নেই স্বস্তি! রাজশাহীর বর্তমানে গরুর গোস্তের কেজি ৭৫০ টাকা। আর কোরবানির গোস্তের ভ্রাম্যমাণ বাজারেও প্রতি কেজি গরুর গোস্তের দাম বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। নিত্যদিনের গোস্তের দোকানের দাম আর সংগ্রহ করা গোস্তের দামে কোনো তফাৎ নেই এবারের ঈদে!
সোমবার (ঈদের দিন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোরবানির সংগ্রহ করা গোস্তের অস্থায়ী বাজারে দেখা যায় প্রতি কেজি গরুর গোস্তের দাম হাঁকা হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। প্রতি বছরের মতো কোরবানির সংগৃহ করা গোস্তের বাজার বসেছিল এ দিনও। কিন্তু মধ্যস্বত্তভোগী ব্যবসায়ীদের থাবায় কোরবানির সংগ্রহ করা গোস্তের বাজার নিত্যদিনের মতোই চড়া।
মৌসুমি গোস্ত ব্যবসায়ীরা দুপুরের পর ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে কোরবানির সংগ্রহ করা গোস্ত কিনে নেন। এরপর ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তারা এই গোস্ত বিক্রি করেন চড়া দামেই। প্রতি বছরই কোরবানির শেষে বিকেলে সংগ্রহ করা গোস্তের বাজার বসে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন এলাকায়। বিভিন্ন স্থান থেকে ভিক্ষুক ও খেটে খাওয়া মানুষ বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা মাংস নিয়ে আসেন এই বাজারে। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তাদের কাছ থেকে হাতবদল করে বাজারমূল্যেই সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করেন মধ্যসত্বভোগীরা।

বিকেলের পর শহর ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন, শিরোইল বাস টার্মিনাল, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর, দড়িখড়বোনা, লক্ষ্মীপুর, হড়গ্রাম, সরকারি মহিলা কলেজের মোড়সহ বিভিন্ন মোড়ে বসেছিলো গোস্তের বাজার। গত বছর কোরবানির মৌসুমে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করা কোরবানির গোস্ত বিক্রি হয়েছে এই বাজারে। এবার ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে গোস্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোরবানির সংগ্রহ করা খাসির গোস্তের দর ছিল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি।
রাজশাহী মহানগরের বিহারি কলোনি (সিরোইল) এলাকার গোস্ত বিক্রেতা আমজাদ হোসেন বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ কেজি গোস্ত কেনাবেচা করেছেন। এতে তার ভালোই লাভ হয়েছে। সোমবার দুপুরের পর আশপাশের পাড়া-মহল্লা থেকে ভিক্ষুক ও দরিদ্র লোকেরা যে গোস্ত সংগ্রহ করেছেন, তা কিনে নিয়েছেন আমজাদ হোসেন। পরে সেই গোস্ত ভ্যানে করে বিক্রি করেন বেশি দামে। বছরের এই একদিন গোস্তের ব্যবসা করেন বলে জানান তিনি।
রেলওয়ে কলোনি এলাকার সাজ্জাদ আলী বলেন, যারা আর্থিক কারণে অথবা সময়ের অভাবে কোরবানি দিতে পারেননি এবং যাদের বড় খাবারের হোটেল আছে তারাই মূলত এই সংগ্রহ করা গোস্তের ক্রেতা। পারিবারের জন্য ২ থেকে ৩কেজি করে কোরবানির গোস্ত কিনে বাড়ি নিয়ে গিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন অনেক স্বল্প আয়ের মানুষ। আর হোটেল ব্যবসায়ীরা যার কাছে যেমন পান বেশি বেশি করে এই গোস্ত কিনে রাখেন। তারা কোরবানির গোস্ত মজুদ করে কয়েক মাস পর্যন্ত খাবার হোটেল পরিচালনা করেন।
কোরবানির সংগ্রহ করা গোস্তের দাম বেশি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন গৌরহাঙ্গা এলাকার ক্রেতা আরিফ শেখ। তিনি বলেন, প্রতি বছরই কোরবানির সংগ্রহ করা গোস্তের দাম বাড়ছে। গত বছর ৬০০ টাকা কেজি দরে কোরবানির গোস্ত পাওয়া গেলেও এ বছর ৭৫০ টাকা কেজি! এভাবে মধ্যসত্বভোগীরা সব জায়গায় হানা দিলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
এ অবস্থা চললে ভ্রাম্যমাণ দোকানে গোস্ত কিনতে কেউ আর আসবে না। কোরবানির দিনও যদি বাজার দামেই গরুর গোস্ত কিনতে হয় তাহলে ঈদের একদিন আগেই কেনা ভালো বলে মন্তব্য করেন এই ক্রেতা।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin