নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃটিশ বিরোধী স্বাধীকার আন্দোলনের মহান নেতা বিরষা মুন্ডা এর স্মরণ সভা রোববার বিকেলে গোদাগাড়ীর বটতলীতে অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির নির্বাহী সদস্য সুশেন কুমার স্যামদুয়ার। সংগীত প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমন্ত কুমার মুরারী, বটতলী গ্রামের মোড়ল জগৎ মুরারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নরেশ মুরারী।
সভাপতির বক্তব্যে বেনজামিন টুডু বলেন, ১৮৭৫ সালে যখন বিরসা মুন্ডা জন্মগ্রহণ করেন। তখন ব্রিটিশরা আদিবাসীদের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে বনভূমির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলো এবং শোষণ করার চেষ্টা করছিল। এজন্য তারা আংশিকভাবে স্থানীয় জমিদারদের সঙ্গে মিত্রতা তৈরি করে। এই স্থানীয় জমিদাররা আদিবাসীদের কার্যত দাসত্ববৃত্তি করতে বাধ্য করেছিলো বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইংরেজরা এই লক্ষ্যে একটি সামন্ততান্ত্রিক জমিদারি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। যা আদিবাসীদের ‘খুন্তকাট্টি’ কৃষি ও জমির মালিকানা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। গোটা ব্যবস্থাটা এসে দাঁড়িয়েছিল সম্প্রদায়-ভিত্তিক। কারণ, ইংরেজরা রাজত্ব করার জন্য বাইরের এলাকা থেকে মহাজন, ঠিকাদার, সামন্ত ও জমিদারদের নিয়ে এসেছিল। এই অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব, সেই সঙ্গে খ্রিস্টান এবং মিশনারিদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আদিবাসীরা গর্জে ওঠে। ১৮৮৬ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে বিরসা মুন্ডা চাইবাসাতে প্রচুর সময় কাটিয়েছিলেন। এই অঞ্চল থেকেই আদিবাসী আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল। আদিবাসী সর্দারদের কাজকর্ম বিরসার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তিনি মিশনারি ও সরকারবিরোধী কাজের অংশ হয়ে ওঠেন। ১৮৯০ সালে বিরসা যখন চাইবাসা ছাড়েন, সেই সময় তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর ব্রিটিশ নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দৃঢ়ভাবে জড়িত।
তিনি আরো বলেন, বিরষা সে সময়ে কজন আদিবাসী নেতা হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেন। তিনি আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মানুষকে একত্রিত করেছিলেন। তিনি নিজের মতাদর্শ ‘বিরসাইত’ চালু করেন। যা তাঁর ওপর আদিবাসী মানুষের বিশ্বাস বাড়ায়। আর বিরসা ঈশ্বরের মতো ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মুন্ডা এবং ওরাওঁ সম্প্রদায়ের মানুষজন বিরসার দলে যোগ দিতে শুরু করেন। যা ব্রিটিশদের ধর্মান্তর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে বরে জানান তিনি। সেইথেকে এই মহান নেতার জন্ম ও মৃত্যুদিবস আদিবাসীরা বিশেষভাবে স্মরন করে আসছে।