নিজস্ব প্রতিবেদক: “স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি,ভোক্তার স্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি ” স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহীতে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার পূর্বে র্যালি ও বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়। র্যালিতে রাজশাহী বিভাগের স্থানীয় সরকার শাখার পরিচালক পারভেজ রায়হান, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ ও সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত সহ বিভাগের বিভিন্ন দফতরের উদ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
র্যালি শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় এবং কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর যৌথ আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) তরফদার আক্তার জামীল, বিজিবি-১ রাজশাহীর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মতিউল ইসলাম মন্ডল, র্যাব-৫ রাজশাহীর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মুনীম ফেরদৌস, রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু, রাজশাহী উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রোজেটি নাজনীন ও কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহীর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা খাদেমুল ইসলাম।
কি নোট উপস্থাপন করেন কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ক্যাব এর সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক কবির হোসেন, রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, রাজশাহী ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাংবাদিক রাশেদ রিপন। সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ইব্রাহীম হোসেন।
সভায় উপস্থিত অতিথি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উন্মুক্ত আলোচনায় চিকিৎসা, খাদ্য ও শিক্ষায় যে অনিয়ম এবং ফুটপাত দখল ও আমানা গ্রুপ এর দূর্নীতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেইসাথে আসছে ঈদে যেন নিরাপদ সামাই মানুষ খেতে পারে সেজন্য লাইসেন্স বিহিন সামাই ফ্যাক্টরী বন্ধের জন্য প্রধান অতিথির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা। সেইসাথে তাঁরা ব্যাংকের অনিয়ম সম্পর্কেও কথা বলেন। তাঁরা বলেন, বেসরকারী ব্যাংকে ঋন নিতে গেলে নানা ধরনের ফরম পুরণ করতে হয় এবং সর্বনিম্ন পঁচিশটি ব্ল্যাংক চেক জমা নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
প্রধান অতিথি সবার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন। এপরপর তাঁর বক্তৃতায় বলেন, শুধু প্রশাসনের পক্ষে সকল ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দূর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ সব দপ্তরেই জনবলের সংকট রয়েছে। তার মানে এইনা যে, তাঁরা থেমে আছেন। প্রতিদিন সরকারের কোন কোন বাহিনী মাদক, ভেজাল খাবার ও মেডিকেল দালালসহ অন্যান্য অফনিয়মের জন্য দোষিদের আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছেন। ব্যবসায়ীদের সীমাহীন মুনাফা অর্জনের দিন প্রায় শেষের দিকে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সকল ব্যবসায়ীদের অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কোন ব্যবসায়ী কত পণ্য ক্রয় করেছে এবং কি দরে বিক্রি করছে তা এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, দেশের পরিবহন খাত একটি বড় ধরনের খাত। এই খাতে ব্যপক অনিয়ম হয়। সে সকল অনিয়ম বন্ধ করতে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছে। শালিক ও শ্রমিক যত বড়ই শক্তিশালী হোক, কেউ ছাড় পাবেনা বলে জানান তিনি। সেইসাথে পর্যায়ক্রমে মেডিকেল, ওষুধ, ভেজাল খাদ্য ও কোচিং বাণিজ্যের অনিয়ম নিয়ে জোরতালভাবে কাজ শুরু করা হবে। কেউ অনিয়ম করলে রেহাই পাবেনা উল্লেখ তিনি আরো বলেন, ফুটপাতের সকল ব্যবসায়ীকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও ফুটপাত যেকোন মূলে দখলমুক্ত করা হবে।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ধর্মীয় নেতাদের কাজে লাগাতে হবে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ সম্পর্কে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। সেইসাথে কোথাও অনিয়ম, দূর্নীতি ও ভেজাল খাবার উৎপাদন ও বিক্রি করতে দেখলে প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে খবর দেয়ার জন্য পরামর্শ দেন তিনি। শেষে সবাইকে সাথে নিয়ে একটি সুন্দর ও সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধান অতিথি।