বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দায়িত্বশীল নাগরিক গড়তে স্কাউটিংয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ- জেলা প্রশাসক রাজশাহী মহানগরীতে জুয়েলারি দোকানে চুরির ঘটনায় ৮জন গ্রেপ্তার, স্বর্ণ-রুপা ও নগদ টাকা উদ্ধার রাজশাহীতে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় নিহত সেনাসদস্য রিফাতের দাফন সম্পন্ন রোটারি ক্লাব অব রাজশাহী সেন্ট্রাল এর পোষাক বিতরণ চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে শোকের মাতম পদ্মার পানিতে ডুবেছে ঘর, পানিবন্দী মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক শিশুর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান বিএমডিএ’র মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষিত খাতা পুনরায় দেখার অভিযোগ পবা মোহনপুরের প্রতিটা কমিউনিটি ক্লিনিকের আধুনিকায়ন করা হবে পবার চর মাঝার দিয়ারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনীতে : এমপি মিলন

নানা আয়োজনে রাজশাহীতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৬১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি অর্জন করেছিলো বিজয়। এ পৃথিবীর মানচিত্রে খচিতহয় স্বাদীন বাংলাদেশ। তাই আজকের এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাব-গাম্ভীর্যের সঙ্গে উদ্যাপন করে বাঙালি জাতি। সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় মহান বিজয় দিবস।
এ উপলক্ষ্যে শনিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জেলা পুলিশ লাইন্সে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়।
সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ৯টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে ইতিহাসের মহানায়ক স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, শহিদের আত্নত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে মহান বিজয়। তাঁরা বাংলাদেশের মানুষকে বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার পথ তৈরি করে দিয়ে গেছেন।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে অকুতোভয় বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তির মূলমন্ত্রে। ১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের আকাক্সিক্ষত ও গৌরবান্বিত বিজয়। সেইসঙ্গে অবসান হয় বাঙালি জাতির ২৩ বছরের শোষণ ও বঞ্চনার। এই বিজয় শাসকের বিরুদ্ধে শোষিতের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের, বঞ্চনার বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের।
তিনি বলেন, মুক্ত বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ উন্নয়নের মহাযাত্রায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশে^র দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। মহান বিজয়ের ৫৩তম বছরে এসে বেশকিছু গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ এখন পৃথিবীর ৩৫তম অর্থনীতির দেশে মপরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মেগাপ্রকল্পগুলো তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাংলাদেশে এখন শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমরা পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল করতে পেরেছি। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমিসহ ঘর প্রদান করে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশে^ বিরল নজির গড়েছেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় মনোনিবেশের আহ্বান জানান।


এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুল হাদী, প্রফেসর (অব.) ড. মু. শামসুল আলম, বীর প্রতীক বক্তৃতা করেন।
ঐ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পৃথিবীতে ১০টি দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পৃথিবীতে আলোরণ সৃষ্টি করেছিলো একটি কারণেÑ এটা ছিল জনযুদ্ধ। আজ আমরা যে স্বাধীন দেশ দেখছি এর ইতিহাস অনেক নির্মম। ৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ মা-বোনেরসম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। ৩০ লক্ষ শহিদের দেহগুলো যদি একটার পর একটা রাখা হতো ৭২০ কি.মি. দীর্ঘ হতো এবং একটার উপর আরেক একটা রাখলে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চেয়ে বেশি উঁচু হতো। তাঁদের রক্তগুলো একত্রিত করলে দেড় কোটি লিটার হতোÑযা পদ্মা নদীতে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয় তার সমান।এই শহিদরা যদি হাতে হাত রেখে দাঁড়াতো তাহলে ১১’শ কি.মি. হতোÑ যা টেকনাফ থেকে শুরু করে তেঁতুলিয়া পার হয়ে যেত।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রতিটি ধূলিকণার সঙ্গে শহিদের রক্ত মিশে আছে। আমাদের কর্মে, আচরণে আমরা যদি তা মনে রাখি তাহলে আমরা অন্যায় বা খারাপ কিছু করতে পারব না।তিনিসবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।সভার শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।
শনিবার সুবিধামতো সময়ে, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধাশ্রম, ছোট মনিনিবাস; অন্ধ, মূক ও বধির বিদ্যালয়, সেফ হোম, এসওএস, শিশুপল্লি, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও বেসরকারি এতিম খানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করেন।
শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত,যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ জোহর মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং সুবিধামতো সময়ে অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।দিনটি লক্ষ্য রেখে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির রাজশাহী কার্যালয় চিত্রাঙ্কন, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin