নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার রাজশাহীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৩এর উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশ্সান মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে উদ্বোধনী আলোচনা সভার পূর্বে বর্নাঢ্য র্যালি করা হয়। র্যালি শেষে বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানো হয়। শেষে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে উদ্বোধনী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধণী বক্তব্যে রাখেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন, মাছ মানুষের প্রত্যাহ খাবার। গোস্তের চেয়ে মানুষ মাছ বেশী খায়। সেটা ছোট হোক আর বড়। মাছে ভাতে বাঙ্গালী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশীয় মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। কারন জলাশয় ও খালবিল কমে গেছে। এছাড়াও যেগুলো রয়েছে তাতে পানি না থাকায় দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তোরণ পেতে মৎস্যচাষীরা ও মৎস্যজীবীরা পুকুরে মাছ চাষ করছেন। সরকারও নানা ভাবে মৎস্য চাষীদের এবং মৎস্যচাষীদের আর্থিক ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। যার ফলে দেশে মৎস্য চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষ স্বল্পমূল্যে মাছ ক্রয় করে খেতে পারছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, মাছ মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকে বিধায় উৎপাদিত মাছটি মানব দেহের জন্য কতটা উপকারী বা ক্ষতিকর তা দেখতে হবে। মৎস্যচাষীরা মাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে নানা ধরনের মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর খাবার খাওয়ান। এতে করে ঐ মাছ মানুষ খেলে তাদেরও ক্ষতি হয়। এজন্য নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের আহ্বান জানান প্রধান অতিথি। সেইসাথে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন না করার জন্য মৎস্যচাষীদের নির্দেশনা দেন তিনি। বক্তব্য শেষে তিনি সপ্তাহব্যাপি মৎস্য সপ্তাহর উদ্বোধন ঘোষনা করেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের রাজশাহী বিভাগীয় প্রকল্প পরিচালক কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশরা বিজয় বসাক, রাজশাহী রেঞ্জ এর এডিশনাল ডিআইজি নরেশ চাকমা। এছাড়াও মৎস্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন অফিসের প্রতনিধি, মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন। শেষে মৎস্য চাষে ভাল করায় বেশ কয়েকজনকে ক্রেষ্ট ও সনদ দিয়ে বিশেষ সম্মাননান প্রদান করা হয়।