বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে শোকের মাতম পদ্মার পানিতে ডুবেছে ঘর, পানিবন্দী মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক শিশুর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান বিএমডিএ’র মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষিত খাতা পুনরায় দেখার অভিযোগ পবা মোহনপুরের প্রতিটা কমিউনিটি ক্লিনিকের আধুনিকায়ন করা হবে পবার চর মাঝার দিয়ারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনীতে : এমপি মিলন রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবীতে নওহাটায় মানববন্ধন অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়নাল এর পাশে বিএনপি নেতা সুলতান আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: বিভাগীয় কমিশনার

প্রশ্ন শুনে রেগে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য, সাংবাদিকদের তোপের মুখে এমপি ফারুক

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪
  • ২৩০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিকের প্রশ্নশুনে রেগে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ওমর ফারুক চৌধুরী। রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সভাপতি রফিকুল ইসলামের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তোমার প্রবলেম হলো তুমি অলওয়েজ বায়াস্ট হয়ে পয়সা খেয়ে প্রশ্ন করো। দিস ইজ ভেরিব্যাড।

সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর এমন মন্তব্যেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগের প্রমাণ করার জন্য তাঁর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তানা হলে সাংবাদিকদেও কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন। সাংবাদিকদেও এমন তোপের মুখে দ্রুত সেখান থেকে চলেযান এমপি ফারুক। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

এ দিন উপজেলা পরিষদেও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল শপথ নেওয়ার পর প্রথম তাঁর অফিসে যান। বেলাল এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে চ্যালেঞ্জ করেই এ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। এমপি ওমর ফারুক সমর্থিত প্রার্থী সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পরাজিত হন। সাংবাদিকরা খবর পান, বেলাল উদ্দিন সোহেলের প্রথম কর্ম দিবসে ইউপজেলা পরিষদেও সমন্বয় সভা হবে। এ সভায় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীও থাকবেন। সেখানে বেলাল উদ্দিনকে অফিসে বসতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে। এমন খবরের ভিত্তিতেই সাংবাদিকরা উপজেলা পরিষদ চত্বওে অবস্থান নেন।

উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রথম কর্মদিবস বলে তাঁর কয়েকশো নেতাকর্মীও সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। বেলা ১২টার দিকে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম পুলিশ ও আনসার সদস্যদেও সহায়তায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বেলালের কর্মী-সমর্থকদের বের করে দিচ্ছেন। ইউএনও নিজেই হ্যান্ডমাইকে বার বার নেতাকর্মীদেও চলে যেতে বলছিলেন।

এরকিছুক্ষণ পর বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন চেয়ারম্যান ও ৩০-৪০ জন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সেও সামনে আসেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এসেই তিনি‘এদিকে আসো, এদিকে আসো। সাংবাদিক সাহেবরা এদিকে আসো’ বলে সাংবাদিকদেও ডাকেন।

তিনি সাংবাদিকদেও বলেন, ‘আজ সমন্বয় মিটিং। এই মিটিংয়ে এই লোক গুলো কারা? এই অবৈধ সমাবেশটা কিসের? আমি ইউএনও সাহেবের কাছে প্রশ্ন করলাম। তাঁকেআমি দুইবার রিংকরেছি যে, এই সমাবেশ হঠাও। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই সমাবেশ করা হয়েছে এবং এতে ইউএনও সাহেব ইনভলব কিনা আই ডোন্ট নো। বাট তাকে আমি দুইবার রিকোয়েস্ট করেছি এই গুলোকে হঠানোর জন্য।’
সাধারণ জনগণকী একজন জন প্রতিনিধির সঙ্গে প্রথম দিনআসতে পারেনা, সাংবাদিকদেও এমন প্রশ্নে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন,‘না। আজকে এখানে মিটিং আছে। জন প্রতিনিধির সাথে আসতে পারেনা। মিটিংয়ের দিনে পারেনা।’ এ সময় কালের কণ্ঠের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, ‘আপনার সঙ্গেও অনেক লোক আছে, তারা কেন এসেছেন?’

এ প্রশ্নশুনেই রেগে যান এমপি ফারুক। তিনি বলেন, ‘এরা চেয়ারম্যান। শোনো, তোমার প্রবলেম হলো- তুমি অলওয়েজ বায়াস্ট হয়ে পয়সা খেয়ে প্রশ্ন করো। দিস ইজ ভেরিব্যাড।’

সাংবাদিকরা এ সময় বলতে থাকেন, ‘আপনি এটা খারাপ বললেন। আপনার কথাটা ঠিক নয়। এমন কথা বলার জন্য আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’ এ সময় ফারুক চৌধুরী প্রতিবাদ করতে থাকা দৈনিক ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ ফটো সাংবাদিক আজাহার উদ্দিনের নাম ধওে বলেন, ‘আমি তোমাকে এ কথা বলি নাই। যে আমাকে প্রশ ্নকরেছে, আমি তাঁকে বলেছি।’তখন সাংবাদিকরা বলতে থাকেন, ‘উনি আমাদেও সভাপতি। আপনি একজন সাংবাদিককে এ কথা বলতে পারেন না। আপনাকে স্যরি বলে যেতে হবে। আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না।’

সাংবাদিকদের তোপের মুখে দ্রুত সেখান থেকে চলে গিয়ে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতওে চলেযান তিনি। সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী যাকে তাকে যখন তখন অপমান জনক কথা বলেন। তিনি কিছুদিন আগেই নিজের এলাকার এক কলেজ অধ্যক্ষকে পিটিয়েছেন। তাঁকে অত্যন্ত যৌক্তিক একটা প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু তার প্রেক্ষিতে যে কথা বলেছেন তা সাংবাদিকদেও জন্য অপমানজনক।’

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সাইফুর রহমান রকি। তিনি বলেন, ‘এমপি ওমরফারুক চৌধুরী পুরো সাংবাদিক সমাজকে অপমান কওে কথা বলেছেন। তিনি যদি সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ ক্েরন ক্ষমা না চান, তাহলে তাঁর সমস্ত ইতিবাচক সংবাদ বয়কট করা হবে। সাংবাদিক ইউনিয়নও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, ঘটনার সময় তিনি ভেতওে ছিলেন। বাইরেকী হয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘নতুন একজন জন প্রতিনিধি দায়িত্ব নিতে গেলে তাঁর সঙ্গে অনুসারীরা প্রথমদিন গিয়ে থাকেন। এ জন্যই মানুষ ভালোবেসে আমার সঙ্গে এসেছিল। কেউ এমপিকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসেননি। এ রকম কেউ চিন্তাও করেনা।’

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে সমাবেশ করার সঙ্গে ইউএনওর সম্পৃক্ততা থাকার ব্যাপাওে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সে বিষয়ে জানতে চাইলে কোন কথা বলতে চাননি ইউএনও আতিকুল ইসলাম। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, ‘এমপি সাহেব কী বলেছেন তা শুনিনি। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাইনা। তবে ইউএনও আতিকুল ইসলাম ভাল কাজ করছেন। স্থানীয় রাজনীতির দলা দলির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আর একজন সংসদ সদস্যকে যে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা আছে তা গোদাগাড়ীর ইউএনও দিচ্ছেন এবং আগামীতেও দিয়ে যাবেন।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin