নিজস্ব প্রতিবেদক: যুগ গেমসের পাঁচ খেলোয়ারের জামিন হয়েছে। শেখ কামাল বাংলাদেশ যুব গেমস থেকে ফেরার পথে রাজশাহী রেল স্টেশনে পুলিশ কনস্টেবল দম্পতির ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এই পাঁচ খেলোয়াড়ের জামিন মঞ্জুর হয়। জামিন প্রাপ্তরা হলেন, আব্দুল আল জাহিদ (১৬), ফারহানা খন্দকার (১৭), রিমি খানম (১৭), জেমি আক্তার (১৪) ও বৃষ্টি মণি (১৬)। তাদের বয়স আঠারো বছরের কম হওয়ায় আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
সোমবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিচারক মোহা. হাসানুজ্জামান তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। একই মামলায় বাকি সাতজন খেলোয়াড়কে আসামি হিসেবে রোববার রাতেই আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার আসামিরা হলেন, রাজশাহী মহানগরীর পাচানি মাঠ এলাকার আলী আজম (১৯), হাজরাপুকুর ডাবতলা এলাকার আকাশ আলী মোহন (২০), একই এলাকার আব্দুল আল জাহিদ (১৬), জিন্নানগর এলাকায় আহসান কবীর (৪৫), নিউ কলোনি এলাকার ফারহানা খন্দকার (১৭), কয়েরদাড়া এলাকার রিমি খানম (১৭), জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট এলাকার খাদিজা খাতুন (১৮), রাজশাহী মহানগরীর বখতিয়ারবাদ মালদা কলোনি এলাকার পাপিয়া সারোয়ার পূর্ণিমা (১৯), ছোটবনগ্রাম উত্তরপাড়ার দিপালী (১৯), বড় বনগ্রাম রায়পাড়া এলাকার সাবরিনা আক্তার (১৯), একই এলাকার জেমি আক্তার (১৪), মহানগরীর শাহ মখদুম থানার মোড় এলাকার বৃষ্টি মণি (১৬) এবং হাজরাপুকুর ডাবতলা এলাকার রমজান (১৯)। এর মধ্যে রমজান ছাড়া বাকিরা সবাই গ্রেফতার হয়েছিলেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মাইনুর রহমান বলেন, গত রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে প্লাটফর্মে নামার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুব খেলোয়াড়দের হামলায় আহত হয়েছেন এক পুলিশ কনেস্টবল ও তার স্ত্রী। তাদের দাবি, ঢাকা থেকে যুব গেমস খেলে ফেরা রাজশাহীর কুস্তি দল ট্রেনের ভেতরে তাদের মারপিট করেছে। এ ঘটনায় ঐ পুলিশ সদস্যের নাক ফেটে গেছে। হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্যের স্ত্রী বাদী হয়ে রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ১৩ জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর আগে ট্রেন থেকে নামার পরপরই রেলওয়ে থানা পুলিশ ১২ জন খেলোয়াড়কে আটক করে। পরে ঐমামালায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
এদিকে আসামি পক্ষের পরিবারের সদস্যদের দাবি ঐ পুলিশ সদস্যই আগে এক খেলোয়াড়কে থাপ্পর মেরেছিলেন। তারপরই ঘটনার সূত্রপাত। এরপর বিষয়টি রেলওয়ে থানায় নিয়ে মীমাংসা করার কথা ছিলো। কিন্তু পুলিশ সদস্যের স্ত্রী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে মামালা দায়ের করেন। আর রেলওয়ে পুলিশও সাথে সাথে ঐ মামালায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেন তাদের।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোপাল কুমার বলেন, কোনো কিছুই আইনের বাইরে করা হয়নি। পুরো বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরকে জানিয়ে তারপরই মামলা নেওয়া হয়েছে। আর ঐ খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মাত্র। বর্তমানে তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।