নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৩ এপ্রিল মুসলমানদের সব থেকে বড় উৎসব ঈদ-উল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে বুধবার ছয়টি রোজা চলে গেলেও রাজশাহী মহানগরীতে জমে ওঠেনি ছিটকাপড়েরর ব্যবসা। প্রায় ব্যবসায়ীকে অলস সময় পার করতে দেখা যায়। দীর্ঘ দুই বছর কোভিড-১৯ এর কারনে কেউ ভালভাবে ঈদ করতে পারেননি। সকল প্রকার পোষাকের মার্কেট বন্ধ থাকায় নতুন কাপড় ছাড়াই বেশীরভাগ মানুষ ঈদ করেছেন। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার প্রভাব না থাকেলও আছে অর্থেও অভাব। নিত্যপন্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যদেও মুখে দু-বেলা খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা পরেছে বেশী বিপাকে। আয়ের থেকে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবারের ঈদ তাদের নিকট অতটা আনন্দের হবেনা বলে উল্লেখ করেন পছন্দের কাপড় ক্রয় করতে আসা অনেক নারী পুরুষ।
কাপড় ক্রয় করতে আসা আবু নওশের, শাহজাহান আলী, আব্দুল জব্বার, সকিনা খাতুন, মিলিয়ারা খাতুন ও রুমিসহ আরো অনেকে বলেন, যে আসা নিয়ে তারা ঈদের জন্য পরিবারের সদস্যদেও জন্য পছন্দেও কাপড় ক্রয় করতে এসেছিলেন তা, পছন্দেই সিমাবদ্ধ রয়ে যাচ্ছে। দুইজনের কাপড়ের বাজেটে একজনের কাপড় ক্রয় করতে হচ্ছে। তারা বলেন, প্রতিটি সিট কাপড়, প্যান্ট, শার্ট ও পাঞ্জাবীর কাপড়ে প্রকার ভেদে ৩০ থেকে ৩৫০টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আয় না বাড়লেও কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার হয়তা পুরোনো কাপড় দিয়েই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগ করতে হবে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।

রাজশাহী সাহেব বাজার কাপড় পট্টির জনতা বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সারওয়ার হোসেন পলাশ, জে.বি ক্লথ ষ্টোরের রমজান আলীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বলেন, এবারে সকল কাপড়ের দাম বেশী হওয়ায় ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। এছাড়াও রোজার ছয়টা অতিবাহিত হলেও বাজারে তেমন কোন লোকজন নাই। করোনা আসার পূর্বে এ সময়ে বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে মার্কেটে হাটার জায়গা পাওয়া যেত না। তবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চাকুরীজীবীদের বেতন ও বোনাস হলে ক্রেতা বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন। তারাে বলেন, সে সময়ে রোজার প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে। এতে সিট কাপড় ক্রয় করে টেইলার্সে গিয়ে প্যান্ট, শার্ট, টু-পিচ, থ্রি-পিচ, পাঞ্জাবী ও কাবলীসহ অন্যান্য পোষাক তৈরী করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে যেভাবে বিক্রি হচ্ছে, এভাবে চললে এবার মারাত্বক ক্ষতির মুখে পরতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।
এদিকে রাজশাহী বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অশোক কুমার সাহা বলেন, একদিকে নিত্যপন্যের মূল্য আকাশচুম্বী হওয়ার এবং বারংবার সুতা, জালানী তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বস্ত্র ব্যবসায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দেশী বিদেশী প্রতিটি সিট কাপড়ের দাম রকম ভেদে ২০ থেকে ৯০ টাকা গজে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও শাড়ী কাপড়ে ২৫০-৩০০টাকা এবং থ্রি-পিচ ও টু-পিচেও ১৫০-২৫০টাকা পর্য়ন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে । এতে করে এই রোজায় কতটা ব্যবসা হবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা। এবার আবার দাম বেশী হওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। এ খাত বাঁচাতে কাপড়ের কাঁচা মাল এবং সুঁতার উপরে থেকে শুল্ক কমানোর আহবান জানান এই নেতা।
এদিকে রাজশাহী বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামীম আহম্মেদ বলেন, ব্যবসা এখনো শুরু হয়নি। রোজার মাত্র ছয়টা। আরো এক সপ্তাহ সিট কাপড়ের ব্যবসা করার সময় রয়েছে। এর মেধ্য হয়তো ব্যবসা হতে পারে। তবে কাপড়ের দাম অন্যান্য বারের থেকে বেশ বেশী। আইনশৃংখলার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের মার্কেটে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল রয়েছে। প্রতিবারের ন্যায় গভীর রাত পর্যন্ত ক্রয় বিক্রয় করলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কোন প্রকার সমস্যা নাই বলে জানান তিনি।