নিজস্ব প্রতিবেদক: নগদ, ক্যাশ আদান প্রদানের একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন প্রতিবন্ধি, বয়স্ক, বিধবা ও শিক্ষার্থীরা। প্রতারণার স্বীকার এই সকল ব্যক্তিরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাজির হন রাজশাহী জিপিওতে। কারন জিপিও নগদ এর অংশিদার। প্রতারণার স্বীকার রাজশাহীর হরিয়ানের প্রতিবন্ধি এনামুল হক বলেন, তিনি একজন প্রতিবন্ধি ব্যক্তি। তাঁর তেমন কোন আয় নেই। এই টাকাটা তার অনেক কাজে লাগে। কিন্তু মেসেজে টাকা দেখলেও টাকা উত্তোলনের সময় মোবাইল ক্যাশে কোন টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজশাহী নগরীর ৩০নং ওয়ার্ডের মির্জাপুরের বদরুন্নেসা বলেন, তিনি বয়স্কভাতা পান। কিন্তু সেই ভাতা দ্ইুমাস হলো হাতে পাচ্ছেন না। মোবাইলে মেসেজ আসলেও ক্যাশ নিতে যেয়ে দেখেন হিসাব শুন্য। এরকম প্রতারণার স্বীকার নগরীর পাচানী মাঠের মহিদুল ইসলাম, মঞ্জুরা বেগম, আব্দুল মজিদসহ জিপিত-তে আসা শত শত নারী-পুরুষ বলেন, ব্যাংকিং পদ্ধতিই ভাল ছিলো। এখানে টাকা তুলতে এসে সময় নষ্ট হতো, কিন্তু টাকা হারাতো না। নগদের মাধ্যমে টাকা নিতে প্রতারণায় টাকা হারিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানান ভূক্তভোগিরা।
তারা আরো বলেন, প্রতিবন্ধি ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সমাজ ও পরিবারে বোঝার ন্যায়। কারন তারা কোন প্রকার কাজ করতে পারেন না। সরকারী এই টাকাটা তাদের নিকট বিপাদের বন্ধু বলে উল্লেখ করেন তারা। তারা দ্রুত নগদের সংস্কার ও হ্যাকারদের আটক করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তীর দাবী জানান।

এ বিষয়ে রাজশাহী ডেপুটি পোস্টামাস্টার জেনারেল কাম সিনিয়র পোস্টমাস্টার ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারবেননা। নগদের সাথে জিপিও এর একটি শেয়ার আছে মাত্র। কিন্তু নগদের উপরে তাদের কোন প্রকার খবরদারী নেই। এখানে নগদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি জায়গা দিয়েছেন মাত্র। এখান থেকে নগদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
নগদ এর কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংএ প্রতিজনের একটি করে হিসাব নম্বর রয়েছে। সেইসাথে রয়েছে একটি পিন নম্বর। এই পিন নম্বর যদি কোনভাবে অন্য কেউ পেয়ে যান বা জেনে যান তাহলে তিনি অনাসায়ে ঐ হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করে নিতে পারবে। হয়ত এমনাই ঘটছে সেখানে। তবে এই সমস্যা সরাসারি না দেখলে তিনি সঠিকভাবে বলতে পারবেন না বলে জানান এই কর্মকর্তা।