নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদযাপিত হল দেশের পণ্যভিত্তিক সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘সোনায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতের সঞ্চয়’। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর ঐতিহাসিক ভূবনমোহন পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রাটি রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, জিরোপয়েন্ট, কুমারপাড়া, সোনাদীঘির মোড় ঘুরে মালোপাড়া সড়কসহ বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ভূবনমোহন পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এরপর মহানগরীর স্বর্ণকারপট্টিতে থাকা বাজুস এর রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল কেক কাটা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) রাজশাহী জেলা সভাপতি মানিক ও সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাজুস রাজশাহী জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, সেই দিন আর বেশি দূরে নেই, যেই দিন বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে বিশ্বে জুয়েলারি শিল্পে মডেল হবে ‘বাংলাদেশ’। তার ব্যবসায়ীক প্রজ্ঞা, সৃষ্টিশীলতা ও দূরদর্শিতায় আগামীতে বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্প আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে।
তারা আরো বলেন, তাঁর নেতৃত্বের সুদক্ষতায় ও সুপরিকল্পনায় জুয়েলারি শিল্প এরই মধ্যে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। আশাজাগানিয়া সাফল্যের মধ্যেদিয়ে অদূর ভবিষ্যতে দেশের জুয়েলারি শিল্প ফিরে পাবে তার হারানো অতীত ঐতিহ্য। স্বর্ণের বারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ এবং বাংলাদেশই ‘গোল্ড ব্যাংক’ হবে। দেশের ব্যবসায়ীদের স্বর্ণের শতভাগ বৈধতা থাকবে। কারও স্বর্ণ ধরেই আর চোরাই স্বর্ণ বলে চালান দিতে পারবে না। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মাথা উঁচু করে স্বর্ণ ব্যবসা করতে পারবেন। বাজুস হবে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাজুস রাজশাহী জেলা শাখার সহ-সভাপতি মণীষ রায়, মেরাজুল ইসলাম, রনি চন্দ্র মণ্ডল, সেলিম হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম সুইট, তহিদুল ইসলাম তুহিন, ইসলাম, মাইনুল হোসেন, মনিরুল ইসলাম মনি ও কোষাধ্যক্ষ রায়হান। এছাড়া সদস্য রবিন কুমার সরকার, সজল চন্দ্র সরকার, সাধন সরকার, হাসান আলী, আরাফুল ইসলাম অপু, আমিনুর রহমান আমিন, সনজিত সরকার, সুকুমার প্রামাণিক বিশু ও মোখলেছুর রহমানসহ আরও অনেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বাজুস এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একই সাথে রাজশাহীর নয় উপজেলায়ও শোভাযাত্রা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার রাজশাহীর সকল জুয়েলার্সের দোকান অর্ধদিবস বন্ধ ছিল। এছাড়া প্রতিটি দোকান সুসজ্জিত করা হয়েছে। রাতে শোভা পাবে বর্ণিল আলোকসজ্জা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একই ধরনের কর্মসূচি পালন হয়।