নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কয়েরদাঁড়া বটতলা মোড়ে শত শত নারী পুরুষ মিলে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে এক মধ্যবয়সি নারী বলেন, তারা মাদকমুক্ত সমাজ চান। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারছেনা। মাঝে মধ্যে দু-এক জনকে গ্রেফতার করলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও তারা একই পেশায় লিপ্ত হন। মাদক ব্যবসায়ীদের চিৎকার চেঁচামেচিতে তারা অতিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সকাল নাই, দুপুর নাই, রাত নাই, যেকোন সময় এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে মারামারি করছে ঐ মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক ব্যবসায়ীদের কবল থেকে মুক্তি চান। সেইসাথে তারা মাদকমুক্ত এলাকা চান।
এদিকে কাঁদতে কাঁদতে রাজশাহী মহানগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে আফিক ইসলাম বলে, সে নেশার গন্ধে স্কুলে যেতে পারছেনা। গন্ধে বাড়ি থেকেও বের হতে পারছেনা। আফিক আটরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর ছাত্র বলে জানা গেছে।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসি আরো বলেন, বাড়ির পাশে কয়েরদাঁড়া বটতলা মোড়। সকাল হলেই সেখানে মাদক কারবারিদের আনাগোনা শুরু হয়। মাঝে মধ্যেই তাদের হট্টগোলে কান ভারি হয়ে ওঠে। মোড়ে একটি চেম্বারও খোলা হয়েছে। চেম্বারের সামনে একটি দলের ব্যানার ফেষ্টুন ঝোলানো রয়েছে। এই ব্যানারের ছায়াতলে চলে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এই ব্যবসার সাথে জড়িত ঐ এলাকার খোদাবক্সের ছেলে নাসিম ও আওয়াল, আওয়ালের ছেলে সানাউল্লাহ ও মালদা কলোনীর বাবলু শেখের ছেলে (নাসিমের জামাই) বাবু বলে জানান তিনি।

তারা আরো বলেন, বাবু এলাকার মাদক সম্রাট হিসেবে বেশ পরিচিত। এলাকায় কেউ জমি কিনলে ও বাড়ি করলে এমনকি বাসাবাড়িতে কেউ অনুষ্ঠান করলেও চাঁদা দিতে হয় । এলাকাবাসী তাদের এমন কার্যকলাপে অতিষ্ঠি বলে উল্লেখ করেন তারা। তারা বলেন, ১৫ জানুয়ারি রাতে কবুতর নিয়ে হট্টগোল করে আওয়াল গংরা। এলাকাবাসিরা প্রতিবাদ করলে নেশা খেয়ে এসে মারামারি করে আওয়াল, নাসিম, বাবু, সানাউল্লাহ’রা। এমন অবস্থা থেকে মুক্তি ও এদের কবল থেকে বাঁচতে এবং শান্তি চায় এলাকাবাসী ।
বিষয়টি নিয়ে আরএমপি বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, গত দুই দিন আগে জমিজামা ও কবুতর সংক্রান্ত বিষয়ে সেখানে মারামারি হয়েছিলো। কিন্তু এ নিয়ে মানববন্ধন করেছে এটা তাঁর জানা নাই। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সব সময় সোচ্চার ছিলো। আছে এবং থাকবে। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। মাদকের সত্যতা পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।