নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয় রোগিদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দু:স্থ-অসহায় রোগিদের চিকিৎসা সেবা, বিনামূল্যে ওষুধ, চলাচলে অক্ষম রোগিদের মধ্যে হুইল চেয়ার ও বস্ত্র প্রদান অব্যাহত রেখেছে। সেইসাথে নগদ অর্থ এবং অজ্ঞাত রোগিদের পরিচয় খুঁজে বের কাজ করে আসছে। ইতোমধ্যে এই সমাজসেবা কার্যালয় অনেক সুনাম কুিড়য়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অজ্ঞাত রোগি আলম হোসেনের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং পরিচয় খুঁজে দেয়ার কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
রামেক হাসাপাতালের সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিসার ড. হামিদুল ইসলাম ও রেজাউল করিম বলেন, চলতি বছরের গত ২০জানুয়ারী অজ্ঞাত হিসেবে আলম হোসেন নামে এক রোগি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩নং ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। এরপর থেকেই তাঁকে পূনর্বাসনের লক্ষ্যে পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা চলছিলো। এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ এর সাথে তারা একাধিকবার আলোচনা করেন বলে জানান। পরবর্তীতে পরিচালক এর নির্দেশনায় বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি), রাজশাহী কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে রোগীর ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই করে রোগীর বাড়ি হাকিমপুর, দিনাজপুর বলে ঠিকানা পাওয়া যায়।
তারা আরো বলেন, দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাসুদ রানার সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। সেইসাথে রোগীর এক মেয়ে রাজশাহী শহরের তালাইমারির ফুলতলা এলাকায় থাকেন জানা যায়। রোগীর ওই মেয়ের সাথে যোগাযোগ করে মেয়েকে হাসপাতালে এনে রোগীকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা। রোগীকে হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে রোগী কল্যাণ সমিতি হতে ঔষধ, বস্ত্র ইত্যাদির পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে নগদ ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা প্রদান করা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী সিআইডি কার্যালয়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, হাকিমপুর, দিনাজপুরসহ এই কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে রামেক হাসপাতাল সমাজ সেবা কার্যালয়ের পক্ষ ধন্যবাদ জানানো হয়। হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের জন্যে এটি একটি অনন্য সাফল্যের বিষয় উল্লেখ করে এ ধরনের রোগীদের পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা। এ সময়ে অত্র ওয়ার্ডের ডাক্তার, ইনচার্জ, রোগির মেয়ে ও হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।