নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর ধরে দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে রাজশাহী নগরবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে আরএমপি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মানুষের আস্থা এবং ভালোবাসা অর্জন করেছে আরএমপি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রীল শেডে আরএমপি’র ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, এক সময় এ অঞ্চল জঙ্গিবাদের আতুড়ঘরে পরিণত হয়েছিল। আরএমপির সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে অসম সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে জঙ্গিবাদ নির্মূল করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। সরকার এ নগরী তথা সারা বাংলাদেশ দক্ষ পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস এবং নাশকতার বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম সে পথচলা সহজ ছিলো না। অনেক পুলিশ সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিতে পিছপা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশ সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন। সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, অপারেশন কন্ট্রোল এবং মনিটরিং সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, কিশোর গ্যাং -এর ডিজিটাল ডাটাবেজ প্রস্তুতসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে এ অঞ্চলের অপরাধ নির্মূল করে নগরবাসীর শান্তি বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে আরএমপি’র প্রতিটি সদস্য। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, হ্যালো আরএমপি এ্যাপস, নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ক্যামেরা স্থাপনসহ নানামুখী পুলিশিং সেবা নগরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে তারা।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঈপ্সিত সোনার বাংলা গড়তে বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর। জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন পুলিশ হবে মানবিক এবং জনবান্ধব। তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই পুলিশিং ব্যবস্থাই চালু করেছেন। প্রত্যেক পুলিশ সদস্য মানবিক এবং জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সরকার যে পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশনা দিয়েছে তার আলোকে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।
মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা স্মরণ করে আইজিপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন একঝাঁক পুলিশ সদস্য। কোন বাঁধাই তাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি। অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে তারা ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল-সূর্য। এ সময় তিনি যে কোনো সংকটপূর্ণ মুর্হুতে পুলিশের উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং ২০৪১ সালে যে ভিশন তা অর্জনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরএমপি কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি মাসুদুর রহমান ভুঁইয়া, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক, পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল বক্তৃতা করেন। অন্যান্যদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে আরএমপি কার্যালয় চত্বরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে ৩২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উদ্বোধন করেন আইজিপি। পরে এক বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে আরএমপির চত্বরে আইজিপি ডুলিচাঁপা বৃক্ষ রোপণ করেন।