বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে শোকের মাতম পদ্মার পানিতে ডুবেছে ঘর, পানিবন্দী মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক শিশুর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান বিএমডিএ’র মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষিত খাতা পুনরায় দেখার অভিযোগ পবা মোহনপুরের প্রতিটা কমিউনিটি ক্লিনিকের আধুনিকায়ন করা হবে পবার চর মাঝার দিয়ারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনীতে : এমপি মিলন রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবীতে নওহাটায় মানববন্ধন অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়নাল এর পাশে বিএনপি নেতা সুলতান আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: বিভাগীয় কমিশনার

আদিবাসীদের কারাম ও এর ইতিহাস

  • প্রকাশ সময় সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ৬২৩ বার দেখা হয়েছে

প্রদীপ হেমব্রম: বুধবার ২১ শে সেপ্টেম্বর, বিকেলে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম এর সভাপতি হিংগু মুরমু’র সাথে গিয়েছিলাম তেভাগা আন্দেলনের পূন্যভূমি নাচোলোর রাজবাড়ী হাটে। উরাও সম্প্রদায়ের কারাম উৎসবে যোগদান করতে। গিয়ে দেখি সহস্রাধিক উরাও সম্প্রদায়সহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকের সমাগম এই কারাম উৎসবকে ঘিরে। উরাওদের এই কারাম উৎসবটি যেন হারিয়ে না যায় তাই তাদেরকে উৎসাহিত ও সংস্কৃতি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নাচোলের রাজবাড়ী হাটে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি আয়োজন করে। আর এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নাচোলে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ উরাও সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় আওমীলীগ নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে কারাম উৎসব নিয়ে কথা হচ্ছিল সদ্য স্নাতোকত্তর শেশ করা নিপেন উরাও এর সাথে। সে উরাও সমাজের একজন শিক্ষিত প্রতিভাবান যুবক কিন্তু তার কাছে এই উৎসবের ইতিহাস ও নিগুঢ়ত্ব নিয়ে তেমন কোন তথ্য নেই। এছাড়াও কথা হয় বেশ কিছু বয়োজৈষ্ঠদের সাথে তারা বলেন এখন আগের মত তেমন রীতি চর্চা হয় না। কারাম পূজো অনেকটাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। আদিবাসীদের বিভিন্ন উৎসব ও রীতিনীতি নিয়ে কথা হয় রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির নির্বাহী সদস্য প্রফেসর যোগেন্দ্রনাথ সরেন এর সাথে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে এই উৎসবগুলো টিকিয়ে রাখতে এ সম্পর্কিত লেখা ও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানান; অপর নির্বাহী পর্ষদ সদস্য চিত্তরঞ্জন তার বক্তব্যে বলেন আদিবাসী সমাজের মানুষকে শিক্ষিত হতে হবে। শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের অধিকার ও সংস্কৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরকেই।

কেননা শিক্ষা ছাড়া আর জানা ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই আমাদের শিক্ষা ছাড়া সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার বিকল্প নেই। উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিংগু মুরমু কারাম উৎসব নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন আদিবাসীদের প্রাণের উৎসব এখান উদযাপন মাত্র হতে চলেছে দিন দিন। আগের মত কারামের ডাল পূজোর নিগুঢ়ত্ব নিয়ে কিংবা এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে তরুণ প্রজন্মের তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। দিন দিন আমাদের উৎসবগুলোও শুধু নাম মাত্র ও উদযাপন মাত্র হয়ে যাচ্ছে আমারা আমাদের রীতিগুলো নতুনদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই যেন তারা তাদের পরর্র্বতীদের কাছে। এই সকল উৎসবের পবিত্রতা ও প্রয়োজনীয়তা ধরে রাখে।” এছাড়াও এবিষয়ে আয়োজক রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেঞ্জামিন টুডুর সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসে অনেক তথ্য তিনি তার লেখা প্রবন্ধ আমাকে পড়তে দেন তার লেখা প্রবন্ধ হতে ও কিছু সংগৃহিত তথ্য হতে কারাম উৎসবের ইতিহাস নতুন প্রজন্মদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরলাম।

উৎসব প্রিয় আদিবাসীদের জীবন বড়ই বৈচিত্র্যময়। তারা তাদের বিভিন্ন উৎসবাদি পালন করে প্রাণের রঙ মিশেয়ে। শত বঞ্ছনার স্বীকার হয়েও দারিদ্রতার কষাঘাতে তাদের প্রাণের উৎসবে আনন্দের কোন কমতি থাকে না। তারা নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে উঠে তাদের জনপদ। আদিবাসীদের বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে অন্যতম হলো কারাম উৎসব । এই উৎসবটি উরাও, সাঁওতাল, মাহালে, মুন্ডা, পাহান সহ আরও অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠীই কারাম পালন করে থাকে।

কারাম উৎসব সাধারণত বাংলা ভাদ্র মাসের একাদশীতে পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের আদিবাসীরা কারাম উৎসবটি একই দিনে এক সাথে পালন করে না। আর এই কারাম উৎসবটি উরাও সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হিসাবে পালিত হয়ে থাকে বাংলাদেশে। এই মাসের ১১ তারিখ নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ডাকবাংলো মাঠে আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই এসেছিলো এই কারাম উৎসব পালন করতে।

আজ তেভাগা আন্দোলনের পূণ্য ভূমি নাচোলের রাজবাড়ী হাটে বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো উরাওদের প্রাণের এই কারাম উৎসব।
উরাও সম্প্রদায়ের কারাম উৎসবের রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। জানা যায়, ভারতের ছোট নাগপুরে একদিনেই উরাওদের কারাম উদযাপরেন রেওয়াজ আদিকাল থেকেই প্রচলিত। ভারত বর্ষে ইংরেজদের শাসনামলে ছোট নাগপুরে রাজা, জমিদার ও তালুকদারদের উদ্ভব হয়। এতে জমি ও মালিকানার খতিয়ানও বিভক্ত হয়। এর ফলে উরাওদের পাঞ্চ ও পাহড়া প্রথাও ছিন্ন হয়। আর তখন থেকেই কারাম উৎসবের কাহিনী ও উদযাপন এর দিন ক্ষণের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

উরাও সমাজের প্রধান উৎসব হচ্ছে কারাম। সমাজে সাধারণত পাঁচ ধরনের কারাম পালনের তথ্য পাওয়া যায়। এগুলো হলো-১. রা:আজি কারাম: ২. জিতীয়া কারাম, ৩. বাম্বা কারাম, ৪. বুড়হী কারাম ও ৫. দাশাহার বা দাঁশাই কারাম। এই কারামগুলো যথারীতি প্রথমটা উদযাপিত হয় ভাদ্র মাসের একাদশীতে, দ্বিতীয়টি রা:আজি কারাম পালনের ১২ দিন পর, তৃতীয়টি জিতীয়া কারামের পরপরই পালন করা হয়; চুতৃর্থটি অর্থাৎবুড়হী কারাম পালন হয় জৈষ্ঠ মাসের সুক্লা একাদশীতে আর শেষটি পালন হয় কার্তিক মাসে দূর্গা পূজোর পরের দিন। এছাড়াও আরও ১৯ প্রকার কারাম উৎসবের কথা জানা যায়।

কারাম উৎসবের উৎপত্তি সম্পর্কে পৌরণিক কাহিনী থেকে জানা যায় যে, ভারতের সিন্ধু নদীর তীরবর্তী লহরদগা গ্রামে দিপু প্রধান নামে এক উরাও জমিদার সমাপতি বাস করত। তার ঘরে ছিল সাত ছেলে ও এক মেয়ে। দিপু প্রধান তার সাত ছেলে বিয়ে দিলেন কিন্ত তার ছেলেদের সংসারে কোন সন্তান না থাকায় তাদের মধ্যে অশান্তি ছিল। আর এদিকে তার একমাত্র মেয়ের তখনও বিয়ে দেওয়া হয়নি । তাই সেই সাত ভাইয়ের বৌয়েরা তাদের একমাত্র ননদকে ভীষণ হিংসা করত। একটি গান হতে এই সাত ভাই যে ছিলো কথার প্রমাণ পাওয়া যায়-
“সাতো গোতনী কারাম যে গাড়ায়, সাতো যে ডারী-সেওয়া কারায়,
পিড়া উপারে কারাম যে, গড়ায়, সাতো গোতনী সেওয়া কারায়।’

সাত ভাইয়ের পরিবারে কোন অভাব ছিলো না। আর তারা তাদের একমাত্র বোনকে খুব ভালোবাসত। সাত ভাইয়ের ছিলো অনেক গবাদি পশু। জমিতে ছিলো সোনালী ফসল। তবু তারা বাণিজ্য করতো। তারা বহু দূরদূরান্তে যেতে বাণিজ্য করতে । তাদের পশুর পিঠে মালামাল চাপিয়ে তারা বাণিজ্য করতো। বাণিজ্যের কারণে সাত ভাই একবার অনেক দিনের জন্য ঘর থেকে বের হলো। এদিকে রইলো তাদের সাত স্ত্রী ও একমাত্র আদরের বোন। ভাইয়েরা বাণিজ্য নিয়ে চলে যাওয়াতে বোনটিকে একা পায় তাদের স্ত্রীরা এবং বুদ্ধি করে যে তাকে মেরে ফেলার কিন্তু নিজেরাতো এ কাজ করতে পারবে না। তাই তারা তাকে খুব কষ্ট দিত। একদিন তাকে জঙ্গলে পাঠালো বাঘের দুথ আনতে। গহীন জঙ্গলে গিয়ে একলা বোনটি ভয়ে কাঁদতে লাগলো।

তার কান্না শুনে কয়েকটি বাঘের বাচ্চা ছুটে এসে তাকে জিজ্ঞেস কান্নার কারণ । সে তাদের সব খুলে বলল এতে বাঘের বাচ্চাদের দয়া হলো তার প্রতি আর তাকে লুকিয়ে রেখে বাচ্চারা তাদের মায়ের কাছে গিয়ে বল্ল তুমিতো দূরে শিকার করতে যাও আর আমাদের খিদে লাগে তাই তুমি যদি এই পাত্রে আমাদের জন্য দুধ রেখে যাও আমরা সময়মত খেয়ে খেলে বেড়াতে পারবো। বাচ্চাদের বুদ্ধি দেখে বাঘিনী খুশি হলো আর সে পাত্রে তার দুধ রেখে গেল আর বাচ্চারা দুধের পাত্রটি সেই বোনটিকে দিলো। আর এভাবে বাঘের দুধ নিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ী চলে গেল। এটা দেখে সাত গোতনীর তো আরও রাগ বেড়ে গেল। তারা তাকে আরও কঠিন শাস্তি দিতে চাইলো তারা তাকে বনের ঝরণা থেকে জল আনতে বললো আর সাথে দিলো সাতটি ফুটো করা কলসি। ঝরণার কাছে গিয়ে জল নিতে গিয়ে দেখে কলসি ফুটো । সে মনের দুঃখে কাঁদতে লাগলো। তার কান্না শুনে ঝরণার জলের গর্ত থেকে ব্যাঙ উঠে এলো আর তাকে জিজ্ঞেস করলো তখন সব ঘটনা খুলে বললো তাতে ব্যাঙ তার সাথীদের ডেকে সাতটি ব্যাঙ মিলে কলসির ফুটো বন্ধ করলো আর এভাবে এবারও সে জল নিয়ে বাড়ী ফিরলো। এটা দেখে সাত গোতনীরা তো বেজায় চটে গেলো। তারা তাকে মেরে ফেলার ফন্দি করলো। আর তাদের ননদকে জঙ্গলে খড়ি আনতে পাঠলো কিন্ত সাথে কোন দড়ি দিলো না।

তারা ভাবলো জঙ্গলে গেলে বাঘ কিংবা হিংস্র জন্তুরা তাকে পেয়ে খেয়ে ফেলবে। জঙ্গলে গিয়ে সে খড়ি জোগাড় করলো ঠিকই কিন্তু আনার জন্য কোন দড়ি না থাকায় নিরুপায় হয়ে কাঁদতে লাগলো তার কান্না দেখে এক ডাড়াস সাপের মায়া হলো সে তাকে বলো আমি পেচিয়ে দিচ্ছি তুমি খড়ি নিয়ে বাড়ী যাও । এইবারেও সে সফল হলো এটা দেখে সাত গোতনীরা রাগেকটমট করতে থাকলো আর সুযোগ খুঁজতে লাগলো। তারা ফন্দি করে তাকে নিয়ে একদিন বনে ঘুরতে গেল আর সেখান্ েএকটি বড় ডুমুর গাছের নিচে তারা একটু জিরিয়ে নিলো নিজেদের এমন সময় উপরে দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো পাকা ডুমুর ফল। তারা তাদের ননদকে ডুমুর পাড়তে গাছে উঠালো সে ফল পাড়তে মগ্ন হলো এই সময়ে সাত গোতনী তাকে রেখে পালিয়ে এলো। নীচে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই তার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে তাকে তারা ফেলে গেছে। তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো গাছের নীচে হিংস্র জন্তু জানোয়াররা আশ্রয় নিতে এলো। বোনটি আর ভয়ে নামতে পারলো না এভাবে ওখানেই সে রাত দিন কাটাতে লাগলো।

সাত গোতনী তাদের ননদকে ফেলে বাড়ীতে এসে তাদের মধ্যে অশান্তি বাড়তে লাগলো। এবং দিনদিন এর মাত্রা বাড়তে লাগলো। এই বিপদ থেকে তারা কিছুতেই বের হতে পারছিলো না। শেষে তারা তাদের পিতৃদেবতুল্য বড় ভাই কারমাকে স্মরণ করলো তাদের বিশ্বাস হয়তো বাড়ীর কর্তার পূজো করলো তাদের এই অশান্তি হতে হয়ত রক্ষা পাবে। এই ভেবেই তারা ঘরবাড়ী লেপে পবিত্র করে কারাম ডাল খুঁজে এনে উঠানের মাঝখানে পুঁতে তার পূজো-অর্চনা করতে লাগলো। নেচেগেয়ে তাদের অর্ঘ্য নিবেদন করতে থাকলো তারা । বাণিজ্যে বেরিয়ে অনেক দিন হওয়াতে তারা ফিরে আসতে চাইলো তাই তারা বাড়ীর পথে রওনা হলো। আসতে আসতে সেই বনের রাস্তার মধ্যে দিয়েই তারা সাত ভাই ফিরছিলো ।

তারা সবাই জঙ্গলের ডুমুর গাছের নীচে বিশ্রাম নিচ্ছিল এমন সময় মেয়ের কান্নার শব্দ তাদের কানে আসে তারা উপরে দিকে তাকিয়ে দেখে একটি মেয়ে গাছের উপরে বসে কাঁদছে। মেয়েটি তার ভাইদের চিনতে পেরে আরও জোরে কান্না করতে থাকলো পরে তারা তাকে সেখান হতে উদ্ধার করে। আর তার কাছ থেকে সব শুনে তার সাত ভাইয়ের মনে খুব দুঃখ হলো। তারা তাদের বোনকে নিয়ে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হলো। কিছুদিন পথ চলার পর বড়ভাই বুঝতে পারলো বাণিজ্য করে ফিরতে তাদের বাড়ী ফিরতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তাই সে ছোট ভাইকে বাড়ীর খরব জানার জন্য পাঠালো। ছোট ভাই বাড়ীতে এসে দেখে গোতনীরা কারাম গাছের ডাল পুঁতে তার চারপাশে নাচগান করছে। সেও তাদের সাথে যোগ দিলো আর তার ভাইদের খবর দিতে ভূলে গেলো। এভাবে পর পর বড় ভাই তার সব ভাইদের বাড়ীর খবর নেওয়ার জন্য পাঠালো কিন্তু তারা আর কেউ ফিরে গেলো না। বড় ভাই চিন্তায় পড়ে গেলো। সে সমস্ত বাণিজ্য গুটিয়ে তার বোনকে নিয়ে রওনা হলো বাড়ীর পথে । বাড়ী ফিরে দেখে তার ভাইয়েরা ও তাদের স্ত্রীরা সবাই মিলে কারাম গাছের ডালের চারপাশে নাচে গানে মত্ত। তাদের এই অবস্থা দেখে প্রচন্ড রাগ হলো তার এবং কারাম সেই ডাল তুলে নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিলো।

এই ঘটনার পর তাদের পরিবারে সবার প্রতি অশান্তির ছায়া ভর করলো। তাদের মধ্যে সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটলো। তারা রোগে শোকে আক্রান্ত হলো। একদিন রাত্রে কারমা স্বপ্নে ভগবানের দেখা পেল। ভাগবান তাকে বললো ‘কারমা তুমি কারাম ডাল নদীতে ফেলে বড় পাপ করেছো, তুমি যতদিন ঐ ডালটা খুঁজে নিয়ে এসে তার পূঁজো করবে ততো দিন তোমাদের কোন সুখ হবে না।’ ঘুম হতে উঠে কারমা সেই ফেলে দেওয়া ডাল খুঁজতে বের হলো নদীর তীর তীর চলতে চলতে তার অনেক তৃষ্ণা পেলো। সে নদীর জল খেতে চাইলো কিন্তু তাতে পোকা কিলবিল করাতে খেতে পেলো না।

আবার চলতে থাকলো ফলো তারা আবারও চলতে থাকলো পথে ডুমুর গাছে বিশ্রাম নিলো পাকা ডুমুর ফল দেখে তা পেড়ে খেতে চাইলো কিন্তু ফলেও প্রচৃর পোকা থাকায় আর খাওয়া হলো না তার । পথি মধ্যে চলতে চলতে কিছু মেয়ের দেখা পেল ধারমা তারা চিড়া ভানছে তাদের কাছে সে চিড়া চাইলো কিন্তু মেয়েরা দেখলো যে তার জন্য তাদের চিড়া খারাপ হচ্ছে ফলে তারা তাকে সেখান হতেও তাড়িয়ে দিলো। সে খুব ক্লান হতে পড়লো না খেয়ে। নদীর তীর দিয়ে চলতে চলতে সে তার ছুঁড়ে ফেলা কারাম ডাল দেখতে পেল। আর তা তুলে নিয়ে সে বাড়ী ফিরলো। বাড়ী ফিরে কারাম ডাল পুঁতে আবার তারা পূঁজো দিলো আর তাদের কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা চাইলো এবং আর কোনদিন পাপ করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করলো।

কারাম দেবতা তাদের আর্শিবাদ করলো আবারও তাদের পরিবারে সুখ শান্তি ফিরে পেলো, বাণিজ্য আবাও প্রসারিত হলো। এভাবেই কারাম দেবতা তাদের রক্ষা কর্তা হিসাবে আবির্ভূত হলেন। কারাম দেবতার আর্শিবাদের উপর বিশ্বাস রেখেই তাদের পালন হয় কারাম উৎসব।
তথ্য সূত্র: বেঞ্জামিন টুডু-উরাওদের কারাম উৎসব প্রবন্ধ, অরুণ খালখো, বাংলাদেশের উরাও আদিবাসী, উত্তরবঙ্গের আদিবাসী: সংকলিত প্রবন্ধ, সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প, কারিতাস রাজশাহী অঞ্চল ও যোগেন্দ্রনাথ সরেন, উরাওদের ঐতিহ্যবাহী কারাম পৌরণিক তথ্য কথা।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin