নিজস্ব প্রতিবেদক: ১২ বছর বয়সী মোস্তাফিজুর রহমান (বুলু) নামে এক পথশিশু তার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। শিশুটির পিতার নাম-মিলন হোসেন, মাতা মৃত: মোক্তানা বেগম, গ্রাম: নিতাই সেলিমের মোড়, ডাকঘর-নিতাই হাট, থানা- কিশোরগঞ্জ, জেলা- নীলফামারী। কারিতাস রাজশাহী সুত্রে জানা যায় শিশুটির মা ৮ বছর পূর্বে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। বুলুর মা মারা যাওয়ার পরে তার পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তার সৎ মা তাকে মেনে না নেয়ার শুরু হয় শিশু বুলুর উপরে নির্যাতন।
ছোট খাটো ভুল করলে অনেক মারপিট করতেন তার সৎ মা। শত নির্যাতন ও গঞ্জনা সহ্য করে বুলু তিনটি বছর বাবার সংসারে থাকে। এক পর্যায়ে সৎ মায়ের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে সহ্য করতে না পেরে সে ট্রেনে করে ঢাকায় চলে যায়। ছোট্র ঐ শিশু জীবন ধারনের জন্য ঢাকা রেল স্টেশনে কুলিগিরি ও মানুষের কাছে ভিক্ষা করে এক বছর অতিবাহিত করে বলে জানা গেছে।
ডিআইসি কর্তৃপক্ষ আরো বলেন, ১ বছর পরে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে সে রাজশাহীর শিরোইল স্টেশনে এসে থাকতে শুরু করে। সেখানে তার ঠিকমত থাকার সুযোগ হত না। পরে সে ভাংড়ি কুড়ানো কাজ করতে গিয়ে এক বয়স্ক নারীর সাথে পরিচয় হয় এবং তার সাথে থাকতে শুরু করে। এক সময় আলোকিত শিশু প্রকল্পের স্টাফগণ বুলুকে খুজে পান। সেইসাথে ডিআইসির সেবা সমূহ তার সাথে আলোচনা করেন। এর পর থেকে সে ডিআইসিতে আসতে শুরু করে।
কর্তৃপক্ষ বলেন, পরবর্তীতে তার পরিবারের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে তাকে রিইন্ট্রিগ্রেশনের জন্য মনোনীত করা হয়। ফোনের মাধ্যমে তার বাবা ও দাদা-দাদীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। সে দাদা-দাদীর কাছে যেতে চাইলে তার দাদা-দাদী ও তাকে নিতে চায়। এরপর ডিআইসির ঠিকানা ও ফোন নম্বর প্রদান করে তার দাদা-দাদীকে রাজশাহীতে আসতে বললে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ মঙ্গলবার তারা রাজশাহীতে আসেন এবং পদ্মালেক নূর-এ জান্নাত জামে মাসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মাহে আলম ও মাসজিদের সেক্রেটারী মাহফুজুল ইসলাম ও আলোকিত শিশু প্রকল্পের সকল স্টাফগণের উপস্তিতিতে তাকে হস্তান্তর করা হয়।