নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী শহরের কোল ঘেষে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। এই পদ্মা নদী বর্ষা মৌসুমে কোন কোন সময় বিমুর্ত্তি আকার ধারণ করে। পানির ত্বোরে এপার ও অপার ভেঙ্গে বিলিন করে দেয়। পদ্মা তার পানি দিয়ে ভাসিয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। এবারেও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি। ইতোমধ্যে রাজশাহী পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের চরক্ষিদিরপুর ও খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে উঠছে বন্যার পানি। তাদের গ্রামে পানি প্রবেশ করায় প্রতিটি ঘরে উঠেছে পানি। ডুবে গেছে নলকুপ, সেখানকার জনগণ ও গবাদী পশু নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে। শুধু তাইনয় বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে তারা এপারে চলে এসেছে অনেক মানুষ। যেখানেই উঁচু স্থান পাচ্ছে সেখানেই গবাদীপশু পাখি নিয়ে তারা আশ্রয় নিচ্ছে।
এদিকে রাজশাহীতে বিপদসীমার শূণ্য দশমিক ৮৫ মিটার (১৭ দশমিক ২০) নিচ দিয়ে বইছে পদ্মার পানি। বিপদসীমা হচ্ছে ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান,পানি বাড়লেও শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে ঝুঁকি নেই। তবে সতর্ক অবস্থানে আছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো জানান,এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পদ্মার দক্ষিণের চরাঞ্চলে পানি উঠছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় পানির উচ্চতা ছিলো ১৭ দশমিক ১৫ মিটার। শুক্রবার সকাল ৯ টায় পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২০ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। প্রতি ঘণ্টায় অন্তত দুই সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে,উজানের ঢলে গত দশ দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১২ মিটার। বারোটায় ছিল ১৭ দশমিক শূন্য পাঁচ মিটার। অর্থাৎ তিন ঘণ্টায় বেড়েছে সাত সেন্টিমিটার।
জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে,রাজশাহী শহরের পাশে পদ্মার ওপারে ভারত সীমান্ত-ঘেঁষা চরখিদিরপুর ও খানপুরের বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। তাদের বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট হওয়ায় পরিবার গুলোর মাঝে সহয়তা করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে ত্রাণ বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য শেষ পর্যন্ত জীবন ও গবাদিপশু বাঁচাতে নৌকায় করে ঘর ছেড়ে পদ্মার ডগার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছেন চর খিদিরপুর মিডল চরের শত শত মানুষ। টানা প্রায় এক সপ্তাহ পানিবন্দী থাকার পর বুধবার এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। বেলা ১২টার দিকে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ডগার ঘাট এলাকায় পানিবন্দী মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি পানিবন্দী মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন। এসময় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, চর খিদিরপুর ও মিডল চরে পানি ওঠায় প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে।