নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির আয়োজনে স্মার্ট বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল ১০টা অত্র একাডেমি হল রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অত্র একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিতাস বাংলাদেশ রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ডেভিড হেমরম ও দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও অত্র একাডেমির নির্বাহী পরিষদ সদস্য আকবারুল হাসান মিল্লাত। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সম্প্রদায়ের আইনজীবী, শিক্ষক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অত্র একাডেমির অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ও অন্যান্য কলেজ সমুহের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে পরিগনিত হয়েছে। বর্তমানে একটি স্মার্ট কিংবা এন্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে সারা বিশে^র সাথে নিমেষে যোগাযোগ করা সম্ভব। অথচ বতর্মান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষনা দিয়েছিলেন তখন অনেকেই বলেছিলেন এটা সম্ভব নয়। আজকে টাকা পাঠাতে আর দেরী হয়না। বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন পন্থায় সেকেন্ডের মধ্যে এক স্থান হতে অন্য স্থানে টাকা পাঠানো সম্ভব।
তিনি আরো উল্লেখ করেন স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার ও স্মার্ট সমাজ ব্যবস্থা হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানের চারটি মূল স্তম্ভ। এটা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত মানের স্মার্ট বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এখন মানুষ হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকলেও মনের কাছে রয়েছে। যে কোন সময়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ ও দেখা করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় দেশ দ্রুত নো-ক্যাশ এবং নো- পেপারস এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তখন আর কারো হাতে নগদ ক্যাশ থাকবেনা। সব কিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এর সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হলে সবাইকে স্মার্ট নাগরিক হতে হবে।

তিনি বলেন, স্মার্ট হওয়ার প্রথম শর্ত লেখাপড়া করতে হবে। জানতে হবে। পৃথিবী কোনদিকে এগুচ্ছে সে সম্পর্কে সম্মখ জ্ঞান রাখতে হবে। কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। তিনি আরো বলেন, এখন আর কোন মানুষ না খেয়ে থাকেনা। অনেক যুবক-যুবতীরা ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে এখন মোবাইল কিংবা কম্পিউটার এর মাধ্যমে ঘরে বসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে। সামনের দিনগুলো সহজ নয় উল্লেখ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের গতানুগতিক পড়ালেখা না করে হাতে কলমে পড়ালেখা করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহন নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সব শেষে অত্র একাডেমির শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।