নিজস্ব প্রতিবেদক: সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎস রাজশাহীতে নানা আয়োজনে পালিত হয়। দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন। হিন্দু পুরান মতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরো বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজশাহী মহানগরের আয়োজনে বুধবার রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ দেববিগ্রহ ও হনুমান জিউর আখড়ার সামনে উদ্বোধণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি এ্যাডভোকেট শরৎ চন্দ্র সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ বোয়ালিয়া থানা পূর্বের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অসিত কুমার ঘোষ, জাতীয় পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কার্ত্তিক চন্দ্র হালদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অধ্যক্ষ রাজ কুমার সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সাবেক সভাপতি অলোক কুমার দাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদকজ পার্থ পাল চৌধুরী। এছাড়াও রাজশাহী ও মহানগরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে আরএমপি কমিশনার বলেন, যুগেযুগে পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন বেড়ে যায় তখনই বিভিন্ন অবতার পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আর্বিভূত হন। তেমনি মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে পৃথিবীতে আর্বিভূত হয়েছিলেন সত্য ও ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। মানুষে মানুষে বিভেদ ও বৈষম্য অবসানে সকল ধর্মের আদর্শকে ধারন করেই আমাদের এগুতে হবে। কারণ সব ধর্মেই মানুষের কল্যাণের বাণী রয়েছে। আর এই বাণীর তাৎপর্য মেনে চললে এক শোষণহীন সার্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্য শেষে উপস্থিত অতিথি, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তরা মিলে বর্নাঢ্য র্যালি বের করেন। র্যালিতে মুল ব্যানারের পিছনে নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করেন। র্যালিটি সাহেববাজার শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ দেববিগ্রহ ও হনুমান জিউর আখড়ার সামনে থেকে বের করে কুমারপাড়া, সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট ও সোনাদিঘি মোড় হয়ে নগরীর বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শুরুর স্থানে ফিরে আসেন।