নিজস্ব প্রতিবেদক: গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমি। বুধবার প্রথম প্রহরে রাজশাহী কোর্ট শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পনের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচী শুরু করেন একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। পরে একইদিন বেলা ৩টায় একাডেমি হলরুমে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অত্র একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির নির্বাহী কমিটির সদস্য সুষেন কুমার শ্যামদুয়ার, সদস্য সুবোধ চন্দ্র মাহাতো, রাজশাহী শহর খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি: এর সবাপতি বৈদ্যনাথ হাঁসদা ও একাডেমির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেলী প্রিসিল্লা বিশ^াস। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগীত প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেন।
এছাড়াও একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক কবীর আহম্মেদ বিন্দু, নাটক প্রশিক্ষক লুবনা রশিদ সিদ্দিকা ও গবেষণা সহকারী মোহাম্মদ শাহজাহানসহ আদিবাসী নেতৃবৃন্দ, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় মহান মাতৃভাষার তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পাকিস্তানীরা যখন বাঙালীর উপরে উর্দু ভাষা রাষ্ট্রীয় হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলো তখন পূর্ব পাকিস্তানী বাংলা ভাষার মানুষ বাংলাকে একটি উত্তম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কারন বাঙালীরা কোন ভাষাকেই ছোট করে দেখতে চায়নি। সেজন্য ২১ শে ফেব্রুয়ারী আজ বিশে^ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবী থেকে কালের বিবর্তনে বহু ভাষা হারিয়ে গেছে। বিশে^ এখনো প্রায় সাত হাজার ভাষা রয়েছে। আগামী ১০০ বছরের মধ্যে প্রায় তিন হাজার ভাষা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি সকল জাতীকে তাঁদের নিজ নিজ ভাষা সংরক্ষণ, লালন ও চর্চা করার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে রচনা, সুন্দর হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।