নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ , রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। “অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রবর্তন ও বাস্তবায়ন, নিশ্চিত করবে নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন”-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নারী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলুপটি বঙ্গবন্ধু চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি কল্পনা রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন , রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার । কর্মসূচী পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক আলিমা খাতুন।
আন্যানদের মধ্যে আলোচনা করেন বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী ও প্রজেক্ট অফিসার আতিয়া তানজিমা, আপস এর নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশার পল্টু, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রধান এডভোকেট দিল সেতারা চুনি, টিআইবির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মনিরুল হক, এডাব এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রূপম দত্ত ও পরিবর্তন সংস্থার প্রজেক্ট প্রোগ্রাম অফিসার সোমা হাসান। মহিলা পরিষদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক নিলুফার আহমেদ, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শিখা রায়, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাসনা আরা সুচী, কৃষ্ণা সরকার, কৃষ্ণা রানী মন্ডল ও নুরুন্নাহার পারভিন।
এই সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। আইন কানুনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অধিকার সমান, তবে বাস্তবে তা নারীরা ভোগ করতে পারে না। কারণ সব কিছুর জন্য নারীকে পুরুষের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। নারী-পুরুষের সমানভাবে সম বাজারে প্রবেশ করতে পারলে, ব্যবসার উদ্যোগ নিতে পারলে দেশের অর্থনীতি বাড়বে, বৈষম্য কমবে, জিডিবি বাড়বে বলে উল্লেখ করেন তারা।
এই মানববন্ধনের সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি ,কল্পনা রায় বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের যে সূচনা মহিলা পরিষদ করেছিল তা আজ সকল নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের নিয়মিত কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিছু কিছু প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও বর্তমান সরকার গুরুত্বের সাথে উৎসব মুখরভাবে এই দিবসটি পালন করছে। কিন্তু বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও সকল মানবাধিকার সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। সভাপতি সকলকে নারী দিবসের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে মানববন্ধন সমাপ্তি ঘোষণা করেন।