নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার শুক্রবার সকাল ১০টা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির আয়োজনে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) ও রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্য শেলি প্রিসিল্লা বিশ^াস।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু। অত্র একাডেমির হলরুমে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক এ.টি.এম গোলাম মাহবুব, রাজশাহী কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামসন হাঁসদা ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রামার রতন পাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেন।
আরো উপস্থিত অত্র একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য অধ্যাপক যোগেন্দ্র নাথ সরেন, বর্তমান সদস্য সুসেন কুমার স্যামদুয়ার ও সুবোধ চন্দ্র মাহাতো, সংগীত প্রশিক্ষক কবীর আহমেদ বিন্দু, নাটক প্রশিক্ষক লুবনা রশিদ সিদ্দিকা ও গবেষণা সহকারী মোহাম্মদ শাহজাহানসহ সেমিনারে আগত ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজের প্রতিনিদিগণ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতিসত্ত্বার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এই সরকার বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাতি সত্ত্বার সংস্কৃতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। বিগত কোন সরকার এই জাতি গোষ্ঠীর জন্য কোন প্রকার প্রবিধান মালা তৈরী করেনি। কিন্তু বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার। এর ফলে অত্র একাডেমি সমুহে দ্রুততার সাথে শুন্যপদগুলো পুরণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, সরকার বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। আর এটা বাস্তবায়নে তাঁরা কাজ করছেন। কাউকে পিছিয়ে রেখে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

ডিজিটাল বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণ এখন অনেক এগিয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন তথ্য প্রযুক্তির সময়। মিনিটেই বিশে^র সকল পাওয়া যায়। আর এজন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইড দেখার জন্য উপস্থিত শিক্ষার্থীসহ সকলকে পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, কারো উপরে দোষ চাপিয়ে বা কে কি দেবে সে দিকে না তাকিয়ে নিজেকে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে তৈরী করতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সরকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণ কাজ করছেন। আগামীতে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। এদিকে বক্তব্যের মধ্যে মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পিরানাচ পরিবেশন করেন।