নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্যাতিত পরিবারের ব্যানারে রাজশাহীতে Germinate Construction Pvt . Ltd. এর অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। মহানগরীর নিউ মার্কেট এলাকার একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে বুধবার দুপুর ১২ এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিক ইয়াসিন আলী ও বুশরা খান লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন সারা দেশে ভূমি উন্নয়ন ও বহুতল আবাসিক ভবন নির্মানের জন্য বহু প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়ে সারা দেশে বহুতল ভবন নির্মান করছে । এরই ধারাবাহিকতায় তারা জমির মালিক গত ২৭ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখে Germinate Construction Pvt . Ltd. নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি বদ্ধ হন।
ঐ চুক্তি অনুযায়ী নিম্ন তপশীল বর্নিত সম্পত্তিতে ৮ তলার চার ইউনিট বিশিষ্ট ভবন কোম্পানি নির্মান করবেন বলে চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের তারিখ হতে ৩০ মাসের মধ্যে নির্মান কাজ সম্পন্ন করবেন । তবে কোন কারণে দেরী হল তা অবশ্যই ৩৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করবেন। এতে ডেভোলপার কোম্পানী ব্যর্থ হলে ভূমির মালিককে ক্ষতিপূরন দিতে বাধ্য থাকবেন। কিন্তু ডেভেলপার কোম্পানী তাদের কোন রকম ক্ষতিপূরন না দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করতে থাকে । পরবর্তীতে তাদের অনেক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০১৩ সালে ৯ডিসেম্বর মাসে Germinate Construction Pvt . Ltd. এর এমডি ওসমান গণি রতন এর সহিত আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদিত হয় বলে উল্লেখ করেন তারা।
দলিল অনুযায়ী কার্যক্রম চলাকালীন গত ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী অত্র প্রতিষ্ঠানেরএর এমডি ওসমান গণি রতন বহুতল ভবন নির্মান করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় আমমোক্তারনামা দলিলটি রদ রহিত করা হয় । পরবর্তী সময়ে রাজশাহী মহানগরীর হেতম খাঁ এলাকার মৃত শাহ্ রহিম শাহ চৌধুরী সাথে গত ২০২১ সারেলর ১১জানুয়ারী ভূমি উন্নয়ন বহুতল আবাসিক ভবন নির্মান ফ্ল্যাট বন্টনের চুক্তি হয় । ঐ চুক্তি অনুযায়ী আঃ রহিম শাহ চৌধুরী ভবনের অবশিষ্ট কাজ পাঁচ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করবেন বলে অঙ্গীকার করেন । আর সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে ডেভোলপার কোম্পানী অর্থাৎ আঃ রহিম শাহ চৌধুরী তার অংশ হইতে ১৫ % বঞ্চিত হবেন এবং তা ভূমির মালিক বরাবর যাবে ।
তারা আরো উল্লেখ করেন আঃ রহিম শাহ চৌধুরী চুক্তি অমান্য করে পুলিশের কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হেয়রানী করছেন। তারা শান্তির জন্য আঃ রহিম শাহ চৌধুরীর সমস্ত শর্ত মেনে নিচ তলায় গ্যারেজ ( উভয়পক্ষের ) , চৌদ্দটি ফ্ল্যাট তারা ভূমির মালিক ও চৌদ্দটি ফ্ল্যাট আঃ রহিম শাহ চৌধুরী বুঝে নেন । সেই আলোকে তারা তাদের ফ্ল্যাট বিক্রি ও ভাড়াসহ ভোগ দখল করাকালে তাদের বিক্রিত ফ্ল্যাটের মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সাথে বিভিন্ন রকম অশালীন আচরণ করেন।
তারা বলেন, তারা ভূমির মালিক হয়ে এ বিষয়ে কথা বললে, কথায় কথায় তিনি পুলিশ ডাকেন এবং তাদের বিভিন্ন ভাবে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দিতে অব্যাহত রেখেছেন। আঃ রহিম শাহ চৌধুরী আপোষ মূলে ফ্ল্যাট ভাগাভাগি করলেও বিনা কারণে তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে পুলিশের মাধ্যমে তাদের দখলকৃত ফ্ল্যাটে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন বলে উল্লেখ করেন তারা ।
তারা আরো উল্লেখ করেন আঃ রহিম শাহ চৌধুরী তাদের বিরুদ্ধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে মিথ্যা অভিযোগ করেন । অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাসিক মেয়র পাঁচজন কাউন্সিলররের সমন্বয়ে একটি সালিশী বোর্ড গঠন করে সমাধান করে দেন । সমাধান তারা মানলেও আঃ রহিম শাহ চৌধুরী সমাধান না মেনে তাদের বিভিন্ন ভাবে পুলিশী ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানী করে যাচ্ছে বলে জানান। আঃ রহিম শাহ চৌধুরী পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আঃ রহিম শাহ চৌধুরীর উপযুক্ত বিচারের জোর দাবী জানান তারা। এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন তানভীর আহমেদ আবিরসহ অত্র পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।