নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আদালতে জামিন পাওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান। মিলনের আইনজীবী এডভোকেট রইসুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। মিলন কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমে মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে যান এবং নেতাকর্মীদেও সাক্ষাতসহ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এরপর বাড়ি ফিরে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদেরসাথে সাক্ষাতসহ আটককৃত দলীয় নেতাকর্মীর বাড়িতে যান তিনি। এছাড়াও তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
মিলন বলেন, দীর্ঘ ছয় মাস তিনি কারাগারে ছিলেন। একের পর এক মিথ্যা মামলায় তাকে আটক দেখিয়ে কারাগারে রাখা হয়। এসময়ের মধ্যে রাজশাহীতে অনেক নেতাকর্মী মারা যান। আবার অনেককে এই সরকারের আজ্ঞাবহ পেটায়া বাহিনী বিনা কারনে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সে সকল নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করেন তিনি। এরপর রাতে সপুরাস্থ নিজ কার্যালয়ে আইনজীবীদের সাথে বসেন। সেখানে তাঁরসহ আটককৃত সকল নেতাকর্মীর মামলার করনীয় বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
এসময়ে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটর বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী জর্জ কোর্টের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম, এজাজুল হক এজাজ, রাইসুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, আজিমুসসান উজ্জল, আল-আমিন ও রিয়াজ উদ্দিন।
এদিকে মিলন বুধবার সকালে রাজশাহী আদালত প্রাঙ্গনে আসেন। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের মামলার খোঁজ খবর নেন। সেইসাথে জামিনের ব্যবস্থা করার জন্য আইনজীবীদেও অনুরোধ করেন। পরে দুপুর ২টায় তিনি পবা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মরহুম সেলিম রেজা বাচ্চুর কবর জিয়ারত করতে তাঁর নিজ গ্রাম দারুশার সাহাপুরে যান। বাচ্চুর কবর জিয়ারত শেষে তিনি তাঁর পরিবারের সাথে করতে বাড়িতে যান এবং সেখানে কিছু সময় কাটান। সেইসাথে তাঁদেও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন এবং সর্ব প্রকার সহযোগিতার আশ^াস প্রদান করত পাশে থাকার অঙ্গিকার করেন তিনি। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সদস্য শাহজাহান, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পবা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন।
এছাড়াও পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, দারুশা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস সচিব মোতাহার হোসেন, পবা উপজেলা যুবদল নেতা মাজদার রহমান ও পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিুজর রহমান হাফিজসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য বিএনপি নেতা এডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি ২৮ জুলাই বিএনপি’র মহাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় গেলে ২৭ জুলাই রাতে তাঁকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৬ আগস্ট আদালত এডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে জামিন দেয়া হয়। কিন্তু তাঁকে বোয়ালিয়া মডেল থানার মামলায় জেলগেট থেকে আবারও আটক দেখিয়ে ফের জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। এই ধারাবাহিকতায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে দীর্ঘ ছয়মাস কারাগারে রাখা হয়েছিলো।